Baby health Eating And Nutrition Pre- Schooler (3 to 5 years)

যেভাবে শিশুকে সব ধরণের খাবার খেতে অভ্যস্ত করবেন

আমাদের বাচ্চারা খাবার-দাবার নিয়ে খুব বেশি খুঁতখুঁতে। নতুন খাবার টেস্ট করে দেখতে চায় না। মাছ-মাংস খেতে চায় না, শাকসবজি খেতে চায় না। আমরা ক্রমশই ফাস্টফুডের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। নাগেটস, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ছাড়া শিশুরা অন্যকিছু খেতে চায় না। অন্যদিকে ওরা আমাদের মত বড় মাঠে খেলাধুলা করেও বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। আমাদের শিশুরা সুস্বাস্থ্যের ধারে কাছেও নেই। অল্পতেই অসুখ-বিসুখে পড়ে যায়।

এসব থেকে কিছুটা বাঁচার উপায় হতে পারে দিনে সুষম খাবার সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা। শিশুর পুষ্টিকর খাওয়ার অভ্যাস তাই খুব জরুরী।

শিশু ওর বাবা-মার থেকেই শিখছেঃ

আমাদের বাবা-মায়েদের দেখে দেখেই শিশুরা শেখে। তাই আমাদের বাবা-মায়ের যদি খাদ্যাভাস ভালো না হয়, শিশুর খাদ্যাভাসও ভালো হবে না বলাই বাহুল্য। কাজেই আপনার যদি ফাস্টফুড খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তবে আজই সেটা নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করুন। বাসায় শাক-সবজি খাওয়ার রেওয়াজ বাড়ান। বেশি তেল-মশলার বদলে ঝোল তরকারি রান্না করুন। বাসায়ই নতুন নতুন আকর্ষণীয় স্ন্যাকস রান্না করুন। সব সময় একরকম খাবার না খেয়ে, নতুন কিছু রান্না করুন সপ্তাহে ২/৩বার। এতে শিশুও নতুন খাবার খেতে অভ্যস্ত হবে।

প্রসেসড ফুড কে নাঃ

অনেকদিন ধরে ফ্রিজে জমিয়ে রাখা খাবার বা বাইরে থেকে কেনা প্রসেসড ফুড খাওয়া শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। দিনে একবেলা অল্প রান্না করে, সেদিনেই সেটা শেষ করতে চেষ্টা করুন। তাজা খাবারের স্বাদ বেশি, তাই শিশুর জন্যও নতুন খাবারে অভ্যস্ত হওয়া সোজা হবে।

সব সময় মাংস রান্না করবেন নাঃ

এখনকার শিশুরা মাছ খেতে চায় না একদমই। অথচ মাছে থাকা প্রোটিন ও তেল ওদের চোখ, ত্বক ও চুলের জন্য ভালো। কারণ, মাছের তেলে থাকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড। যেসব শিশু মুরগির মাংস ছাড়া চলতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে আস্তে আস্তে অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সপ্তাহের প্রতিদিন মুরগি খাওয়া ওর জন্য ভালোও না। ওর প্রিয় কোন সবজি থাকলে সেটা দিয়ে মাছ রান্না করে ওকে দিতে পারেন। ডালও দিয়ে ভাত মেখে সাথে মাছ ভাজা খাওয়াতে পারেন। প্রথমেই হয়তো ও খেতে চাইবে না, কিন্তু ধৈর্য ধরুন। জোরাজুরি করবেন না। ঠিক করুন সপ্তাহের কোন ৩/৪দিন মুরগি বা অন্য মাংস রাধবেন আর কোন ৩/৪দিন মাছ। শিশু কান্নাকাটি করে খেতে না চাইলে, ধৈর্য ধরুন। সব সময় ওর মনমতো চললে, শিশু ভাববে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়।

ঠিক সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করাঃ

শিশুকে সময়মতো তিনবেলা খাওয়ার অভ্যাস করান। দিনে ১/২বেলা অন্তত বাসার সবাই টেবিলে বসে একসাথে খান। ওর সামনে শাকসবজি বেশি খান, যাতে দেখে দেখে ও অন্তত খেতে শিখতে আগ্রহী হয়। খাওয়ার সময় গল্প-গুজব করুন। টিভি বা মোবাইল দেখে খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আনুন। ওকে বুঝতে দিন যে খাওয়ার সময় অন্যদিকে মনোযোগ থাকলে ঠিকমতো খাবারের স্বাদ পাওয়া যায় না।

রান্নার সময় শিশুকে সাথে নেওয়াঃ

আমাদের নিজের রান্না করা খাবার কিন্তু নিজের কাছে ভালোই হয়। কারণ কষ্ট করে রান্না করার পর এক রকমের ক্ষুধা তৈরি হয় অন্তত চেখে দেখার। শিশুকেও এই অনুভুতি দেওয়ার চেষ্টা করুন। রান্নার সময় লবন/ চিনি দেওয়া, সবজি ফ্রিজ থেকে এনে দেওয়া, ধুয়ে দেওয়া, মেপে মেপে মশলা দেওয়া এগুলো তো ৩-৫ বছরের শিশুরা চাইলে করতেই পারে। রান্না শেষ হওয়ার পর ওকে বলুন, “আজকে আমার সোনামণি তার নিজের রান্না করা তরকারি দিয়ে ভাত খাবে! ” দেখুন, এতো কাজ করার পর ওর মধ্যে খাওয়ার কেমন উৎসাহ তৈরি হয়!

খেলাধুলা করার ব্যবস্থা করাঃ

আমরা আগে সারাদিন দৌড়ে বেড়াতাম বলে আমাদের ক্ষুধা পেত, তাই টেবিলে যা ভাত-তরকারি থাকতো তাই দিয়ে খেয়ে নিতাম। আপনার শিশুকেও দিনে একটু হুড়োহুড়ি করতে দিন। পাশের বাসায় শিশু থাকলে খেলতে দিন। ছাদে নিয়ে যেতে পারেন বিকেল বেলা। বাসার কাছে পিঠে পার্ক থাকলে নিয়ে যান। পেট খালি হলেই খেতে চাইবে। খেয়াল রাখুন ওর খিদে পেলে ও যেন পুষ্টিকর শাকসবজি বেশি খেতে পায়। বিকেলে তেলে ভাজা খাবার দেওয়ার বদলে মাঝে মধ্যে ফলমূল খাওয়ানোর  অভ্যাস করান।

ছাদ বাগানঃ

ছাদ বা বাসার বারান্দায় জায়গা থাকলে ছোট-খাট শাক-সবজি উৎপাদনশীল বাগান বানিয়ে ফেলুন। পুইশাক, পুদিনাপাতা, লেবু, লাউশাক, করলা এগুলো চাইলে টবেই লাগান যায়। আপনার শিশুকে দিয়ে গাছে পানি দেওয়ান, শুকনা পাতা পরিষ্কার করতে বলুন, টবের মাটি কাঠি দিয়ে আলগা করে দেওয়ার দায়িত্ব দিন।  ওকে বলুন নিয়ম করে এবং মনে করে যেন নিজেই পানি দেয়, তাহলে নিজেই নিজের উৎপাদন করা সবজি খেতে পারবে। ঠিক কৃষকদের মতন। এভাবে ও শাক-সবজি খেতে উৎসাহ পাবে বেশি। আর নিজের গাছের শাক-সবজির স্বাদ এমনিতেও রান্না করলে বহুগুনে বেড়ে যায়।

~This article has been published by ToguMogu as a part of the ‘Maternity Health Articles’ project with support from Just Peoples. Just Peoples is a platform that raises small grants through various activities and from individual donors to support social entrepreneurs across Asia and Africa to invest in small-scale projects. The ‘Maternity Health Articles’ project is made happen with the donation from Ms. Fleur Chambers, Founder of Harvesting Happiness. This publication reflects the views only of ToguMogu Team. Just Peoples, as well as the donor, cannot be held responsible for any use which may be made of the information contained therein.~

মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য সহায়ক খাবারের পাশাপাশি অবশ্যই সহায়ক কাজও শিশুর সাথে করা জরুরি। তা না হলে সেটি খুব বেশি ফলপ্রসূ হবে না। শিশুর বয়স ২ বছর হওয়ার সাথে সাথেই তার বয়স উপযোগী গল্পের বই পড়ে শুনানো শুরু করা দরকার। এরকম কিছু গল্পের বইয়ের সিরিজের তালিকা আমরা করেছি যেগুলো পাওয়া যায় আমাদের ওয়েবসাইটে। দেখতে ক্লিক করুন নিচের ছবিতে-

Related posts

error: Content is protected !!

Get amazing goofi series

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

ToguMogu will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.