article.title
 Jan 17, 2021
 7

মসজিদে বাচ্চাদের সাথে কেমন ব্যবহার করা উচিত?

আমাদের দেশে কম বেশী অনেক বাচ্চাই মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন কোথাও তারা বড়দের আদর সোহাগ পায়।কোথাও বা মসজিদে আসার বিনিময়ে কপালে জোটে ধমকের পর ধমক।চারদিক থেকে যে যা পারে ধমক দিয়ে নিজের বীরত্মকে (?) প্রকাশ করে থাকে।সামান্য কথা বললেই বলে-"খবরদার!কাল থেকে তোরা মসজিদে আসবি না"।"তোদের বাপরা মসজিদে আসতে পারেনা?","দাড়া পিটিয়ে মসজিদের আসার স্বাদ মিটিয়ে দেব""পিঠের ছাল চামড়া একটাও রাখবনা" ইত্যাদি হাজারো ধমক জোটে তাদের কপালে।বাচ্চারা মসজিদে গেলে বড়দের ব্যবহার দেখে মনে হয় যেন কোন নিকৃষ্ট জীব মসজিদে ঢুকে পড়েছে যে কোন মুল্যেই তাকে বের করে দিতে হবে।

গতকাল ৫/৬ বছর বয়সের কিছু বাচ্চা মেয়ে আমার সাথে মসজিদে গিয়েছিল। তারা মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করেনি। শুধুমাত্র মসজিদের এরিয়ার মধ্যে গেছে। নামাজ শেষে একজন লোককে দেখলাম তাদেরকে তাড়িয়ে বাইরে বের করে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং, অনেকদুর পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে গেছে। আমার নামাজ শেষ হলে বাইরে বেরিয়ে দেখলাম তারা আশে পাশে নেই। আরেকটু বাইরে বেরিয়ে দেখলাম একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোক তাদেরকে তাড়িয়ে অনেক দূর নিয়ে গেছে। আমি তাদেরকে পিছন থেকে আমার কাছে আসার জন্য ইশারা দিলে ওরা চলে আসল। উক্ত ব্যক্তি আমাকে এ রকম ডাকতে দেখে কিছুটা লজ্জিত হয়েছে মনে হল। যাহোক, বাচ্চাগুলো চলে আসল। আমি কিছুক্ষন তাদের নিয়ে বিকেলের পড়ন্ত রোদে ঘুরলাম।

তখন শুধুই চিন্তা আসছিল -এ বাচ্চাদেরকে তাড়িয়ে দেয়ার কাজটি করা হচ্ছে বড়দের পক্ষ থেকেই। অথচ, তাদেরকে আদর করে কোলে তুলে নেয়াই ছিল আমাদের দায়িত্ব। এটাই হচ্ছে শিশুদের সাথে আমাদের ব্যবহারের নমুনা। এই হচ্ছে আমাদের উন্নত রুচির

(?) পরিচয়। রাসুল (সাঃ) কি আমাদেরকে এরকম শিক্ষা দিয়েছেন?!!! মুসলমান হিসেবে এটাই কি আমাদের দায়িত্ব।

আসুন! আমরা রাসুল (সাঃ) এর জীবন থেকে জেনে নিই।

বুখারী শরীফে এসেছে- রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামা বিনতে যায়নাব (রাঃ) কে বহন করে (কোলে কিংবা কাঁধে) নামাজ আদায় করতেন। যখন তিনি দন্ডায়মান হতেন তখন তাকে উঠিয়ে নিতেন আর সিজদাহ করার সময় নামিয়ে রাখতেন।আবু দাউদ শরীফে এসেছেঃ

 بَيْنَمَا نَحْنُ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لِلصَّلاَةِ فِى الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ وَقَدْ دَعَاهُ بِلاَلٌ لِلصَّلاَةِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِى الْعَاصِ بِنْتُ ابْنَتِهِ عَلَى عُنُقِهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فِى مُصَلاَّهُ وَقُمْنَا خَلْفَهُ وَهِىَ فِى مَكَانِهَا الَّذِى هِىَ فِيهِ قَالَ فَكَبَّرَ فَكَبَّرْنَا قَالَ حَتَّى إِذَا أَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ يَرْكَعَ أَخَذَهَا فَوَضَعَهَا ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ سُجُودِهِ ثُمَّ قَامَ أَخَذَهَا فَرَدَّهَا فِى مَكَانِهَا فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ بِهَا ذَلِكَ فِى كُلِّ رَكْعَةٍ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ

অর্থাৎ, আমরা একদা যুহর কিংবা আসর নামাজের জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। বেলাল (রাঃ) রাসুল (সাঃ) কে নামাজের জন্য ডাকলেন। রাসুল (সাঃ) তার নাতনী হযরত উমামাহ (রাঃ) কে কাঁধে করে নিয়ে আমাদের কাছে আসলেন। রাসুল (সাঃ) ইমামতির জন্য নামাজের স্থানে দাড়ালেন আমরা তার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম অথচ, সে (উমামাহ রা.) তার স্থানে তথা রাসুল (সাঃ) এর কাধেই আছে। রাসুল (সাঃ) নামাজের তাকবির দিলেন আমরাও তাকবীর দিলাম। রাসুল (সাঃ) রুকু করার সময় তাকে পাশে নামিয়ে রেখে রুকু ও সিজদাহ করলেন। সিজদাহ শেষে আবার দাড়ানোর সময় তাকে আগের স্থানে উঠিয়ে নিতেন। এভাবে নামাজের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাকাতেই তিনি এমনটি করে যেতেন।

এ ছাড়াও রাসুল (সাঃ) এর খুতবা দেয়ার সময় তার নাতি হাসান ও হুসাইন (রাঃ) আসলে তিনি খুতবা দেয়া বন্ধ রেখে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন, কোলে তুলে নিতেন চুম্বন করতেন আর বলতেন খুতবা শেষ করা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। তাই, আমি খুতবা দেয়া বন্ধ করেই এদের কাছে চলে এসেছি। (নাসায়ী শরীফ)

রাসুল (সাঃ) যদি তার নাতনীকে কাঁধে নিয়ে ইমামতি করতে পারেন তাহলে, আমাদের ছেলেমেয়েদের মসজিদে নিয়ে আসতে দোষ কি? কোন যুক্তিতে বড়রা তাদেরকে বকাঝকা কিংবা ধমক দেন? তারা কি রাসুল (সাঃ) এর চেয়ে বেশী কিছু হয়ে গেলেন নাকি?

ছোটরা মসজিদে সামান্য কথাবার্তা বললেই বড়রা ক্ষেপে যায়। আমি তাদেরকে বলব প্লিজ! আপনারা সহনশীল হোন। আপনার ছোট্ট ছেলে কিংবা মেয়ে যখন আপনার নির্দেশ অমান্য করে অথবা ছোট খাটো ক্ষতি করে বসে তখনও তো আপনি অনেক ক্ষেত্রেই তাকে কিছু বলেন না। অন্যের ছেলেকেও নিজের ছেলের মত দেখলে তো আর কোন সমস্যাই হওয়ার কথা নয়।

বড়রা বলেন- ছোট বাচ্চারা যখন হাসাহাসি করে তখন বড়দের নামাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। আমি বলি-যদি দুধের হাড়ী আলগা করে বিড়ালকে বলেন- এই বিড়াল এতে মুখ দিবি না। তাহলে, সে বিড়াল কিন্তু আপনার অর্ডারকে গ্রাহ্য করবেনা। তার সামনে হাড়িটার মুখ বন্ধ করে দেন কিংবা তার থেকে দুধের হাড়িটাকে নিরাপদ দুরত্বে রাখুন।

বাচ্চারা তো হাসাহাসি করে এইজন্য যে, তারা কয়েকজন বাচ্চা একইসাথে পাশাপাশি দাড়িয়েছে। এ অবস্থায় হাসাহাসি হতেই পারে। আমাদের কাছেই কিন্তু এর ঔষধ রয়েছে। তাদেরকে যদি আমরা বড়দের মাঝে মাঝে ঢুকিয়ে নিই তাহলে আর কোন সমস্যাই হয় না। এরা আর হাসাহাসি করারও কোন সুযোগ পায় না। এভাবে বড়দের মাঝে তাদেরকে ঢুকিয়ে নিলে তারাও খুশি হবে। তারা বলবে- আমাদেরকে বড়রা কত সুন্দর করে গ্রহণ করে নিচ্ছে।

অনেক সময় দেখা যায় তারা বড়দের অনেক আগেই মসজিদে এসেছে। কিন্তু, ছোটদেরকে বড়দের কাতারের শেষে রাখা হয়। পরে যখন বড়রা দেরীতে আসে তখন ছোটদেরকে আরও পিছনের কাতারে দিয়ে তারা সেখানে দাঁড়ায়। এর আগেই হয়ত তার নামাজ দুই কিংবা তিন বা কমবেশী রাকাত শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ছোট্ট বাচ্চার মনে অনেক বড় কষ্ট লাগে। তার রাগ হয় যে, ইশ! আমার পুরা তিন রাকাত নামাজই ওই লোকের কারণে নষ্ট হয়ে গেল।

এই লোককে সে আর মনে প্রাণে গ্রহণ করতে পারে না। তার অন্তর থেকে এর প্রতি সম্মান চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ, আমরা যেন তার সাথে এই সামান্য ব্যবহার করে তাকে প্রকারান্তরে হিংসা ও ক্রোধ শিখিয়ে দিলাম।

মিশরে দেখেছি কেউ কেউ তাদের বাচ্চাদেরকে কোলে নিয়ে নামাজ পড়ছে। ছোট্ট বাচ্চাদেরকে মাঝে মাঝে কাতারের মাঝখানে দাড় করিয়ে দেয়া হয়। সেখানে সে নামাজ পড়ে, মাঝে মাঝে খেলা করে। সে যা মনে চায় করুক। তারা শিশু। আমাদের কাছ থেকে তারা স্নেহ পাবার অধি কারী। তাদেরকে স্নেহ করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। রাসুল (সাঃ)বলেছেন: - مَنْ لَمْ يَرْحَمْصَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا فَلَيْسَ مِنَّا

অর্থাৎ, যে আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং বড়দেরকে সম্মান করতে জানে না সে আমার দলভুক্ত নয়। (আবু দাউদ, তিরমীজি, মুসনাদে আহমদ, ইবনে আবি শায়বা)

এখনই যদি তাদেরকে মসজিদ থেকে অনুৎসাহিত করা হয় তাহলে, দেখা যাবে বড় হয়ে সে আর মসজিদেই আসছে না। সে বড় হয়ে গেলে হয়ত আপনি তার কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করবেন। বলবেন যে সে নামাজ পড়তে আসে না। আমি বলব এর জন্য তো আপনিই দায়ী। আপনিই ছোট বেলায় তার সাথে রুঢ় ব্যবহার করে তাকে এরকম বানিয়ে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে জিজ্ঞাসা করলে কি জবাব দেবেন? একটু চিন্তা করেছেন কি?

অতএব, আমাদেরকে সর্বদা এগুলো সম্বন্ধে সতর্ক থাকা দরকার। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমীন।


মা ও শিশু স্বাস্থ্য এর জন্য রয়েছে আমাদের Parent & Child Counseling সহ আরও অনেক সার্ভিস। সেগুলো জানতে ভিজিট করুন https://togumogu.com/en/parenting-services


মা-বাবার জন্য এখন Togumogu নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের প্রথম Parenting app.যার মাধ্যমে প্রেগনেন্সি থেকে শুরু করে ১২ বছর পর্যন্ত শিশুর সকল ধরনের প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস পেয়ে যাচ্ছেন একটি App এ।অভিভাবকের জন্য রয়েছে বিভিন্ন আর্টিকেল যা আপনার সাথে শিশুর বেড়ে উঠাকে করে তুলবে আরও সহজ এবং নিরাপদ। শিশুদের Moral Values বা নৈতিকতা বোধ শিক্ষার বিভিন্ন বই খুব সহজেই পেতে পারেন এখানে।


ToguMogu Parenting App ডাউনলোড করুন আর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সার্ভিস এবং অফার উপভোগ করুন।


Related Articles
Please Come Back Again for Amazing Articles
Related Products
Please Come Back Again for Amazing Products
Tags
ToguMogu App