ToguMogu
ToguMogu
article.title
 Jun 8, 2019
 36554

কখন আমার গর্ভের শিশুর হৃদস্পন্দন শুনতে পাব?

গর্ভের বাচ্চার হার্টবিট বা হৃদস্পন্দন কখন শুরু হয়?

গর্ভবতী মায়েদের প্রথম Trimester এ সবচাইতে উদ্বেগের বিষয় হলো বাচ্চার Heartbeat বা হৃদ স্পন্দন। আগের দিনে স্টেথেস্কোপই ছিল বাচ্চার হার্টবিট বোঝার একমাত্র যন্ত্র এবং এর সাহায্যে শুধু ডাক্তাররাই বাচ্চার হার্টবিট শুনতে পেতেন। এখন বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কার হওয়াতে অনেক আগেই বাচ্চার হার্ট বিট সনাক্ত করা সম্ভব হয় এমনকি মায়েরাও গর্ভের বাচ্চার হার্টবিট শুনতে পারেন।

গর্ভের শিশুর হার্টবিট কখন থেকে শুরু হয়?

গর্ভাবস্থার পঞ্চম সপ্তাহেই গর্ভের শিশুর হৃদপিণ্ডের গঠন শুরু হয়ে যায়। কনসিভ করার সাধারণত ২২-২৪ দিনের মধ্যেই অর্থাৎ গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ সপ্তাহ নাগাদ বাচ্চার হার্টবিট শুরু হয়। তবে এ সময় বাচ্চার হৃদপিণ্ড এতটাই কম থাকে যে তা আল্ট্রাসাউন্ড বা ডপলার মেশিনে ধরা পড়ার মত শব্দ উৎপন্ন করতে পারেনা।

গর্ভাবস্থার ৮ সপ্তাহ নাগাদ যদি আলট্রাসাউন্ড করা হয়ে থাকে তবে এ সময় বাচ্চার হার্টবিট বোঝা যেতে পারে। তবে সাধারণত ১২ সপ্তাহে তা ঠিকমতো বোঝা যায়। কত তাড়াতাড়ি বাচ্চার হার্টবিট মেশিনে ধরা পড়বে তা নির্ভর করে মায়ের জরায়ুতে বাচ্চার অবস্থান, প্লাসেন্টার অবস্থান এবং মায়ের ওজনের উপর।

যদি ৮ বা ১০ সপ্তাহে বাচ্চার হার্টবিট শুনতে না পান তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কোন কারণ নেই। বাচ্চা হয়তো আপনার জরায়ুতে এমন অবস্থানে আছে যাতে তার পিঠ আপনার পেটের দিকে ঘোরানো অবস্থায়। এতে ডপলার মেশিনে সহজে হার্ট বিট সনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কয়েক সপ্তাহ পরেই হয়ত আপনি সে কাঙ্ক্ষিত শব্দ শুনতে পাবেন। তাছারা এসব ক্ষেত্রে ডাক্তার সব কিছু পরীক্ষা করে দেখবেন সব ঠিক আছে কিনা। যদি আপনার মনে কোন প্রশ্ন থাকে তবে তা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

আর প্রতি সপ্তাহে বাচ্চার গ্রোথ আপডেট পেতে Togumogu App ইন্সটল করে রাখুন। আমরা সকল আপডেট দিয়ে আপনার পাশে থাকবো এ পুরো সময়টা।

গর্ভস্থ শিশুর হার্ট রেট চার্ট:

উপরের চার্টটিতে প্রথম এবং দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে শিশুর হার্ট রেট কিভাবে পরিবর্তিত হয় তা দেখানো হয়েছে। তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে হার্টবিট অনেকটা স্থিতিশীল থাকে। তবে প্রসবের আগে করে হার্টবিট কিছুটা কমে যায়। ফুল টার্ম প্রেগন্যান্সিতে প্রসবের সময় বাচ্চার হার্টবিট থাকে ১৪০ bpm এর কাছাকাছি আর প্রি-টার্ম প্রেগন্যান্সিতে তা হতে পারে ১৫৫ bpm এর কাছাকাছি। বাচ্চার হার্ট বিট কত ভালোভাবে বোঝা যা যাচ্ছে তা নির্ভর করে বাচ্চার অবস্থান, প্লাসেন্টার অবস্থান এবং মায়ের শারীরিক অবস্থার উপর।

সাধারনত বাচ্চার হার্ট রেট ১০০-১৬০ এর মধ্যে থাকলে তাকে নরমাল ধরা হয়।

জন্মগত হৃদরোগ

সাধারনত গর্ভাবস্থার ৬ থেকে ৯ সপ্তাহের আলট্রাসাউন্ডে বাচ্চার হার্টবিট পরীক্ষা করা হয়। এ সময় মায়ের ডিউ ডেট ও নির্ণয় করা হয়। দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে বা ২০ সপ্তাহের আলট্রাসাউন্ডে ডাক্তার গর্ভের শিশুর হৃদপিণ্ডের স্ট্রাকচার পরীক্ষা করে দেখবেন বাচ্চার হৃদপিণ্ডের কোন ত্রুটি আছে কিনা। এ সময় কোন ত্রুটি ধরা পড়লে তা গর্ভাবস্থাতেই ঠিক করার কোন উপায় এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, এবং কিছু কিছু ত্রুটি বাচ্চার জন্মের আগে ধরাও পড়েনা, তবু যদি কিছু ধরা পড়ে তবে সন্তান জন্মানোর ঠিক পরপরই তার কি ধরনের চিকিৎসা লাগবে তা নির্ণয় করা ডাক্তারদের জন্য সহজ হয়। যদি দ্রুত হৃদরোগ সনাক্ত করা যায় তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তা নিরাময়যোগ্য।

কিভাবে গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্ট সুস্থ রাখবেন?

কিছু কিছু বিষয় হয়তো আপনার নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেমন ক্রোমোসোমাল এবং জেনেটিকাল অ্যাবনরমালিটি। তবু কিছু কিছু নিয়ম মেনে চলে আপনি আপনার গর্ভের শিশুর হার্ট সুস্থ রাখতে চেষ্টা করতে পারেন- আপনি যদি গর্ভধারণ করেন বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করেন সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমানে ফলিক এসিড গ্রহন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (NTD) ছাড়াও বেশ কিছু হৃদপিণ্ড সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

 যদি বাবা বা মায়ের কারো ধূমপানের অভ্যাস থাকে তবে তা অতিসত্বর ত্যাগ করুন। গবেষণায় দেখা গেছে শতকরা ২ ভাগ জন্মগত হৃদ রোগের কারণ হলো বাবা বা মায়ের ধূমপান।

 যদি গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস থাকে তবে সুগার লেভের নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস জন্মগত হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।

 অ্যালকোহোল বা নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন, পুষ্টিকর এবং সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভাবস্থায় যেসব মায়েরা নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করেছেন তাদের বাচ্চাদের হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকার হার অনেক বেশী। তবে মনে রাখতে হবে শরীরচর্চা করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

আর প্রতি সপ্তাহে বাচ্চার গ্রোথ আপডেট পেতে ToguMogu App ইন্সটল করে রাখুন। আমরা সকল আপডেট দিয়ে আপনার পাশে থাকবো এ পুরো সময়টা।

বাচ্চার হার্টবিট দেখে কি বাচ্চা ছেলে না মেয়ে তা বোঝা যায়?

অনেকেই বলে থাকেন গর্ভের শিশুর হৃদস্পন্দন যদি 140 BPM এর বেশি অথবা সমান হয়, তাহলে শিশুটি মেয়ে। আর যদি হৃদস্পন্দনের রেট 140 BPM এর কম হয়, তাহলে গর্ভস্থ শিশুটি ছেলে হবে। এটি একটি ভুল ধারনা কারণ প্রথম ট্রামেস্টারে বাচ্চার লিঙ্গ হার্ট রেটের উপর কোন প্রভাব ফেলেনা। ২৮-৩০ সপ্তাহ পর্যন্ত সব শিশুরই হার্ট রেট বেশী থাকে। গর্ভাবস্থার পঞ্চম সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভের শিশুর হার্ট রেট থাকে অনেকটা মায়ের কাছাকাছি ৮০-৮৫ BPM। নবম সপ্তাহ পর্যন্ত তা বাড়তে থাকে এবং ১৭০-২০০ BPM পর্যন্ত পৌছাতে পারে। এরপর তা কমে গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি সময়ে ১২০-১৬০ BPM এ থাকে।

এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর বাচ্চার হার্ট বিট নির্ভর করে তা হল । বাচ্চা যত অ্যাকটিভ থাকবে তার হার্ট বিট ও তত বেশী হবে। তবে গর্ভাবস্থার একেবারে শেষের দিকে গর্ভের শিশুর লিঙ্গের উপর নির্ভর করে হার্ট বিট বেশী বা কম থাকতে পারে।

১৯৯৯ সালে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে ঠিক প্রসবের আগে মেয়ে শিশুর হার্ট বিট ছেলে শিশুর চাইতে বেশী থাকে।

প্রতি সপ্তাহে বাচ্চার গ্রোথ আপডেট পেতে ToguMogu App ইন্সটল করে রাখুন। আমরা সকল আপডেট দিয়ে আপনার পাশে থাকবো এ পুরো সময়টা।

ToguMogu App