ToguMogu থেকে আমরা Expecting Parents দের জন্যে প্রকাশ করছি Pregnancy Series. আজকের লেখায় আমরা এখানে তুলে ধরছি Pregnancy এর বিশতম সপ্তাহ।
যেভাবে বেড়ে উঠছে আপনার সন্তানঃ
অভিনন্দন মায়েদের। আপনি এখন প্রেগনেন্সির ২০তম সপ্তাহে আছেন। আপনার সোনামণির সাথে এই মধুর সময়ের প্রায় অর্ধেকটা পার করেছেন সফলতার সাথে। আপনার শিশুর ওজন এখন প্রায় সাড়ে ১০ আউন্স (২৯৮ গ্রাম) আর আপাদমস্তক উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৬ ইঞ্চি। এতদিন শিশুর উচ্চতা মাপা হতো মাথা থেকে হিপ পর্যন্ত। কারন শিশুর পা বেঁকে বুকের সাথে জড়ো হয়ে থাকতো। আর এখন উচ্চতা মাপা হয় মাথা থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত। ২০তম সপ্তাহে আপনার শিশু সাড়ে ৬ ইঞ্চির একটি কলার সমান এ সময়ে শিশু খুব ঘন ঘন খাবার গ্রহন করে। আর এটা তার পরিপাকতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসময়ে শিশু ম্যাকনিয়াম নামক কালো, আঠালো বর্জ্যপদার্থ উপজাত হিসেবে তৈরি করে। এ বর্জ্যটি সে জন্মের পর বা জন্মের আগেই মায়ের পেটে নিষ্কাশন করে।
২০তম সপ্তাহে আপনার শিশু দেখতে যেমন

যেভাবে বদলে যাচ্ছে আপনার জীবনঃ
আপনার জরায়ুর অগ্রভাগ এখন নাভি পর্যন্ত উপরে উঠে এসেছে। আর আপনার ওজন এ কয়দিনে আরও ১০ পাউন্ডের মতন বেড়ে গেছে। এবং সামনের দিনগুলোতেও প্রতি সপ্তাহে এক পাউন্ডের মত বাড়বে। তবে ওজন কতটুকু বাড়ানো দরকার তা নির্ভর করে প্রেগনেন্সির আগে কেমন ওজন ছিল তার ওপরে। এসময়ে পর্যাপ্ত পরিমানে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আয়রন আর খনিজ পদার্থের অভাব হতে দেয়া যাবে না। কারন এগুলো হিমগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। Pregnancy এর সময় আপনার শরীরের বেশি করে আয়রন দরকার। নাহলে রক্তের তুলনায় আয়রন কম হয়ে যাবে। এছাড়া প্লাসেন্টা আর শিশুর জন্যও আয়রন দরকার। আর আয়রন পাবার জন্য ফ্যাটছাড়া মাংস খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া নানা ডালজাতীয় খাবার, পালং শাক, সয়াজাতীয় খাদ্য ইত্যাদিথেকেও আয়রন পাওয়া যায়।
রাতে ঠিকমত ঘুমাবার উপায়ঃ Pregnancy এর সময় রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না। এ সময় আপনার শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে আর এ কারনেই ঠিকমত ঘুমানো যায় না।
- আপনি ঘুমের মধ্যে নাক ডাকবেন। হয়তো আগে কখনও এমন হয়নি, এবারই প্রথম এ ঘটনা ঘটল আপনার সাথে। এর কারন শরীরে এস্ট্রোজেনের আধিক্য। এর কারনে মিউকাস মেমব্রেন ফুলে যায় আর আরও মিউকাস সৃষ্টি হয়।
- হার্টবার্নের কারনে ঘুমে অস্বস্তি লাগতে পারে। তাই এমন খাবার খাওয়া উচিৎ না যাতে বুকে এসিডিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঘুমাবার ২-৩ ঘণ্টা আগে খাওয়া দাওয়া সেরে ফেলুন। তাহলে খাওয়া পরিপাক হবার সময় পায়। আর ঘুমাবার সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে নিন। এতে আরাম লাগবে।
- সারারাত ঘুমের মধ্যে এদিক ওদিক নড়াচড়া করলে ঘুম আসে না। আর তাই একটু একদিকে হেলে ঘুমানো ভাল। প্রয়োজনে দুই পায়ের মাঝে, হিপের নিচে, পেটের নিচে বালিশ দিয়ে রাখা যায়।
- ঘুমের মধ্যে অনেক সময় গরম লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে অনেক ঘাম হয় আর ঘুম ভেঙ্গে যায়। প্রেগন্যান্ট মহিলাদের জন্য এটি সাধারন। মেটাবলিজম, ওজন আর হরমোনে হঠাৎ হঠাৎ পরিবর্তন এর জন্য দায়ী। এরকম গরম লাগলে বাথরুমে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আসুন। রাতে বাথরুমে যাবার সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। পায়ের কাছে বাথরুমের জুতা রাখুন। টাওয়েল রাখুন।
- বিছানায় শোয়া থেকে ওঠা Pregnant মার জন্য বেশ কঠিন। বিছানার সাইডের দিকে কাত হোন। আপনার এক পা বিছানার বাইরে ঝুলিয়ে দিন। হাতের ওপর ভর করে বসুন। পা মাটিতে রাখুন। তারপর আসতে আসতে উঠে দাঁড়ান।
- অনেকসময় অত্যাধিক ক্লান্তির জন্য ঘুম আসে না। তাই বিছানায় শুয়ে ঘুম আসার অপেক্ষা করুন। চাইলে বই পড়তে পারেন। এতে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসবে। ঘুমানোর সময় পাতলা আরামদায়ক কাপড় পড়া উচিত। সুতির কাপড় এক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত। কোন ধরনের সিনথেটিক কাপড় বা মোটা কাপড় পড়া উচিত না। এতে ঘাম হয়, আর ঘুমে অসুবিধা হয়।
এ সপ্তাহের কাজঃ
- নিজে নিজেকে পুরষ্কার দিনঃ প্রেগনেন্সির প্রায় অর্ধেকটা পথ পার করে ফেলেছেন। অনেক ধৈর্য আর কষ্টের বিনিময়ে এ পথ অতিক্রম করেছেন। এর জন্য আপনি পুরষ্কারের প্রাপ্য। কোন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করুন। বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনদের ডাকুন। সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিন। শিশুর জন্য একটি চিঠি লিখতে পারেন। আপনার মনের সব কথা সেখানে লিখবেন। অথবা Pregnant অবস্থায় আপনার প্রথম অফিশিয়াল ছবি তুলে নেন। বেশ ভাল একটা স্মৃতি হিসেবে থাকতে পারে ছবিটা। উপভোগ করুন এ সময়টা। Pregnancy এর পরের সপ্তাহে আরও কি কি পরিবর্তন আপনার এবং আপনার শিশুর তা জানতে চলে যান আমাদের পরবর্তী লিঙ্কে।