ToguMogu Pregnancy Series: সপ্তাহ ৩৪

এটা সেই সময় যখন থেকে আপনি মাতৃত্বকে আরও কাছ থেকে অনুভব করা শুরু করবেন। মা হবার অনুভূতিটা আপনার মধ্যে মমতা আর দায়িত্ববোধকে আরও তীব্রভাবে জাগিয়ে তুলবে। এই নতুন অনুভুতির জগতে মায়েদের স্বাগতম।

কিভাবে বেড়ে উঠছে আপনার সন্তান?

আপনার বাচ্চা এখন খুব দ্রুত বেড়ে উঠছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন আপনার বাচ্চার ওজন প্রায় পৌনে ৫ পাউন্ড বা ২.১৫ কেজি। আর উচ্চতা প্রায় ১৮ ইঞ্চি। বাচ্চার শরীরে চর্বির স্তর গড়ে উঠছে। এই চর্বির স্তরের কারনে বাচ্চার ত্বক কোমল আর সতেজ হয়ে উঠে। এবং বাইরের পরিবেশের সাথে শরীরের তাপমাত্রা মানিয়ে নেবার জন্যও এই চর্বিস্তর সাহায্য করে।

বাচ্চার সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ধীরে ধীরে পরিনত হয়ে উঠছে। গড়ে উঠছে বাচ্চার ফুসফুসও। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে সেক্স হরমোন উৎপাদন হওয়া। তাই বাচ্চার মধ্যে লিঙ্গের বৈষম্যটা প্রকটভাবে চোখে পড়ছে।

অনেকক্ষেত্রে বাবা-মা অপরিণত ডেলিভারি বা প্রি-টার্ম লেবার নিয়ে চিন্তিত থাকে। তবে ভয় পাবার কিছুই নেই। ৩৪-৩৭ সপ্তাহের মধ্যে যেসব বাচ্চাদের ডেলিভারি হয়, তাদের খুব একটা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় না। কোন কোন ক্ষেত্রে কিছুদিনের জন্য বাচ্চাকে ইনকিউভেটর রাখতে হতে পারে।

কিভাবে বদলে যাচ্ছে আপনার জীবন?

১ম ট্রাইমেস্টারের পর শরীরের ক্লান্তিভাব অনেকটাই কেটে গিয়েছিল। এতদিন পর এসময়ে এসে শরীরের আবার আগের মত ক্লান্তি ভর করবে। এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। কারন এসময়টা আপনার শরীর বেশ ধকলের মধ্যে দিয়ে যাবে। মাঝরাতে হঠাৎ হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাবে। শরীর নড়াচড়া করতে কষ্ট হবে। ঘন ঘন প্রস্রাব হবে।

দ্রুত ঘনিয়ে আসছে আপনার ডেলিভারির সময়। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত থাকুন। সাবধানে চলাফেরা করুন। শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে হঠাৎ করে উঠে দাঁড়াবেন না। তাতে হঠাৎ করে ব্লাড প্রেশার কমে যেতে পারে। মাথায় রক্ত চড়ে যেতে পারে। মাথা ঘোরার অনুভুতি হতে পারে।

এসময়ে অনেকের পিইউপিপিপি নামক একটা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে পেটে, রানে গোল লাল দাগ দেখা দেয়। চুলকানি হয়। এটি ক্ষতিকর কিছু না কিন্তু বেশ অস্বস্তিকর একটি অনুভুতির সৃষ্টি করে। তবে চুলকানি সারা শরীরে হলে সেটা লিভার বা যকৃতের সমস্যা হতে পারে। তবে উভয়ক্ষেত্রেই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

জেনে নিনঃ

সিজারিয়ান ডেলিভারিঃ

আজকাল বাংলাদেশে বেশিরভাগই সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়। তাই এ সম্পর্কে জেনে রাখা ভাল।

সাধারণত যোনিপথে বাচ্চার জন্ম হয়ে থাকে। এটাই সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রচলিত পদ্ধতি। তবুও আজকাল অনেকক্ষেত্রেই সিজারিয়ান ডেলিভারির আশ্রয় নেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে মায়ের পেট আড়াআড়িভাবে কেটে বাচ্চা বের করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রসব করানোর পিছনে বেশ কিছু কারন থাকতে পারেঃ

• নরমাল ডেলিভারি বেশ পীড়াদায়ক। অনেকে এই পীড়া নেবার চেয়ে সিজারিয়ান ডেলিভারিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

• যদি আগে সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়ে থাকে, তবে ডাক্তাররা পরবর্তীতেও এভাবে ডেলিভারি করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

• মায়ের যোনিপথে যদি কোন ধরনের সার্জারি হয়ে থাকে বা কোন সমস্যা থাকে;

• একের অধিক বাচ্চা হলে;

• বাচ্চা বেশি বড় হলে;

• বাচ্চার যদি পা বাইরের দিকে আর মাথা ভেতরের দিকে থাকে;

• বাচ্চা যদি অসুস্থ থাকে;

মুলতঃ এসকল কারনেই সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়ে থাকে।

এ সপ্তাহের কাজঃ

কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিনঃ

কিছুদিনের মধ্যেই আপনার হাতে আরেকটা জীবনের দায়িত্ব আসতে যাচ্ছে। এসময়ে আপনি বা আপনার বাচ্চা যেকোনো সময়ে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। প্রতিবার ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেয়ে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নিলে অনেককিছুই বেশ সহজ হয়ে যায়। যেমন, আপনার বাচ্চার হঠাৎ খিচুনি উঠলে কি করবেন, বাচ্চার শ্বাসবন্ধ হয়ে গেলে কি পন্থা অবলম্বন করবেন, হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটলে কি করতে পারেন এসব জানা থাকলে আপনি নিজে থেকেই অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। এসব প্রাথমিক চিকিৎসাগুলো বাচ্চা ও বড় উভয়ের জন্য ভিন্ন। দুধরনেরটাই জেনে রাখা ভাল।

ToguMogu Logo

ToguMogu is a parenting app offering essential support from family planning to raising children up to age 10.

ToguMogu

Contact

  • +88 01958636805 (Customer Care)
  • [email protected]
  • House 9, Sonargaon Janapath Road, Sector 12, Uttara, Dhaka 1230, Bangladesh

Copyright © 2026 ToguMogu All rights reserved.