সেই কাঙ্খিত সময় অনেকটাই ঘনিয়ে এসেছে। ডাক্তাররাও এই সময়টাকে অর্থাৎ ৩৭ থেকে ৩৯ সপ্তাহকে ফুল-টার্ম বা পরিনত অবস্থা বলেন। অতএব যেকোনো মুহূর্তে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসতে যাচ্ছে। তাই প্রস্তুত থাকুন।
কিভাবে বেড়ে উঠছে আপনার সন্তান?
বাচ্চা এখন গর্ভের বাইরে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত। গর্ভের ভিতর আগামী ২ সপ্তাহে বাচ্চা এখন কেবল তার ব্রেন আর ফুসফুসকে পরিনত করতে ব্যস্ত থাকে। জন্মের সময় অনেক শিশু মাথাভর্তি চুল নিয়ে জন্মায়। তবে চুলের রঙ যদি আপনার চুলের রঙের সাথে না মিলে তবে আশ্চর্য হবার কিছুই নেই। কিছুকিছু ক্ষেত্রে এটা হয়।
আপনার বাচ্চার ওজন এখন ৬১/৩ পাউন্ড আর লম্বায় ১৯ ইঞ্চির চেয়ে একটু বড়। বাচ্চা এখন খুব একটা বাড়ছে না। ডেলিভারির পর্যায়ের জন্য বাচ্চা এখন প্রায় প্রস্তুত।
কিভাবে বদলে যাচ্ছে আপনার জীবন?
ব্রাক্সটন হিক্স কনট্রাকশন এখন বেশ ঘন ঘন হবে। এবং কিছুটা দীর্ঘস্থায়ীও হবে বটে। যোনি থেকে একরকম ক্ষরণ দেখা যেতে পারে। যদি এরকম ক্ষরনের সাথে রক্ত দেখেন, তবে লেবার আর কেমল কয়েক দিনের দেরী।
গ্রুপ বি স্ট্রেপ্টকক্কাম- এর টেস্টের রিপোর্ট দেখুন। কোন সমস্যা থাকলে এখনি ডাক্তারকে জানান। এখন হয়তো রাতে ঘুমাতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হবে। ধৈর্য রাখুন। আর তো মাত্র ক’টা দিন! বাচ্চার গতিবিধির খেয়াল রাখুন। বাচ্চা যদিও এখন অনেক বড় হয়ে গেছে কিন্তু পেটের ভেতর তার দাপাদাপি কমার কথা না। রাতে ঘুমাতে গেলে এসময় নানা অদ্ভুত স্বপ্নও দেখতে পারেন। একে তো লেবারে চিন্তা, তার ওপর নতুন নতুন মা হবার চিন্তা। এরকম স্বপ্ন হওয়াই স্বাভাবিক।
জেনে নিনঃ
লেবারের লক্ষনঃ
লেবার কখন হতে যাচ্ছে তা বলা মুশকিল। তবে কিছু লক্ষন দেখে লেবারের ব্যাপারে ধারনা করা যায়ঃ
• বাচ্চা পেট থেকে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। একে লাইটিনিং বলে। এতে মায়ের পর্শুকা থেকে চাপ ধীরে ধীরে কমে যায়। আর পেলভিক এরিয়ায় চাপ বাড়তে থাকে।
• ঘন ঘন ব্রাক্সটন হিক্স কনট্রাকশন হতে থাকে। এই ঘন ঘন কনট্রাকশন প্রি-লেবারের লক্ষন।
• ওয়াটার ব্রেক সংঘটিত হয়। ওয়াটার ব্রেকের পরই মুলতঃ নিয়মিত কনট্রাকশন শুরু হয়।
এ সপ্তাহের কাজঃ
বাচ্চার জন্য কার-সিট কিনে নিনঃ
যাদের গাড়ি আছে তাদের বাচ্চাদের জন্য কার সিট কিনে ফেলা দরকার। যদিও বাচ্চা বেশির ভাগ কোলেই থাকে। তবুও যদি কার সিট থাকলে বাচ্চা তাতে রেখে আপনি খানিকটা আরাম করতে পারবেন। আর কখন যদি আপনাকেই গাড়ি চালাতে হয় তাহলে তো কার-সিট ছাড়া উপায়ই নেই।