মায়েদের অভিনন্দন। আপনি প্রেগনেন্সির ৩৮তম সপ্তাহে পৌঁছে গেছেন।
কিভাবে বেড়ে উঠছে আপনার সন্তান?
আপনার সোনামণি এখন অনেকটাই হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে। ওজনে প্রায় ৬.৮ পাউন্ড (প্রায় ৩ কেজি) আর লম্বায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ ইঞ্চি।
আপনার বাচ্চাটির এতদিনে অনেকটা চুলও গজিয়ে গেছে। চোখের পাপড়ি আর ভুরুও দেখা দিয়েছে। তৈরি হয়েছে হাত দিয়ে কিছু ধরার ক্ষমতাও। এই ব্যাপারটি প্রথম সেদিনই বুঝতে পারবেন যখন জন্মের পর আপনি প্রথমবারের মত ও’র হাত ধরবেন।
ফুস্ফুস, হৃদপিণ্ড এর মতন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো প্রায় বিকশিত হয়ে গেছে। কিন্তু ব্রেন এবং নার্ভাস সিস্টেম এখন বিকশিত হচ্ছে। যদিও বাচ্চা এতদিনে মায়ের গর্ভের বাইরের থাকার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে।
কিভাবে বদলাতে যাচ্ছে আপনার জীবন?
কিছু সপ্তাহের মাঝেই আপনি জন্ম দিতে চলছেন এক নবজাতককে। এমন সময় আপনার জীবনে কিছু পরিবর্তন আসবে সেটাই স্বাভাবিক। এ সময়ে কারো কারো মনে বিরক্তির সৃষ্টি হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু না। প্রেগনেন্সির সময়টা আসলেই কিছুটা একঘেয়ের। কিন্তু নতুন নবজাতকের কথা ভেবে একে মেনে নিতেই হবে।
একঘেয়েমি কাটাতে বরং আপনার বাচ্চাকে বাসায় স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিতে থাকুন। সাজিয়ে ফেলুন বাচ্চার থাকার জায়গাটা। কিনে ফেলতে পারেন বাচ্চার বিছানা, মশারি, জামাকাপড়, রাবারক্লথ ইত্যাদি। বিষাক্ত দ্রব্যাদি যেমন, ইদুর মারার বিষ, ফ্লোর ক্লিনার, ওষুধপত্র ইত্যাদি বাচ্চার থাকার জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলুন। আসবাবপত্রের সুচালো ধারগুলো নরম কিছু দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। বাচ্চার জন্মের পর এই কাজগুলা করার খুব একটা সময় পাওয়া যায় না। তাই এই কাজগুলা এখন করে ফেলাই ভাল।
এই শেষের সপ্তাহগুলোতে গোড়ালি ও পায়ের পাতা কিছুটা ফুলে যেতে পারে। এতে ভয় পাবার কিছু নেই। কিন্তু এই ফোলা ভাব যদি বেশি হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া দরকার। এছাড়া চোখের আশেপাশে ফুলে যাওয়া, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা, বমিভাব, দৃষ্টিজনিত সমস্যা, যেমন, চোখে ঘোলা দেখা, আলোর ঝলকানি দেখা, স্বল্পসময়ের জন্য চোখে দেখতে না পাওয়া ইত্যাদি লক্ষন দেখা গেলেও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
জেনে নিনঃ
স্তনপানঃ
স্তনপান কেন শিশুকে খাওয়ানোর সবচেয়ে ভাল উপায় মনে করা হয়?
স্তনপান বা বুকের দুধ খাওয়ানো বাচ্চার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাচ্চার জন্য প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ খাদ্য। বাচ্চার মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য প্রথম ৬ মাসে যত ধরনের আমিষ, শর্করা, স্নেহপদার্থ আর ভিটামিন দরকার তার সবই এতে সঠিক অনুপাতে থাকে। বেশ কিছু গবেষণা এটি প্রমান করেছে যে, বুকের দুধ বাচ্চার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বুকের দুধের গুরুত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য-
• বুকে দুধ খাওয়ানোয় বাচ্চা নানা ধরনের শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত সমস্যা এবং কানের ইনফেকশন থেকে রক্ষা পায়।
• বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি, শিশুবয়সে ক্যান্সার আর হঠাৎ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়।
• মায়েদের মানসিক ধকল, স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুকি কমায়।
কিভাবে স্তনপান বা বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিবেন?
বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করাটা খুবই জরুরি। কিভাবে প্রস্তুত হবেন জানার জন্য বিভিন্ন বই ও আর্টিকেল পড়তে পারেন। অন্যতম প্রধান কিছু বিষয় নিচে দেয়া হলঃ
• জন্মের পরপরই মায়ের সাথে বাচ্চার শরীরের স্কিন কন্টাক্ট থাকা দরকার যাতে করে দ্রুত বুকের দুধ খাওয়ানো বা ব্রেস্ট ফিডিং শুরু করা যায়। যদি সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়ে থাকে তবে যতক্ষনে ডাক্তার সার্জারি শেষ করবে ততক্ষন নবজাতক বাচ্চাকে মায়ের বুকের ওপর রাখতে হবে।
• অনেক ক্ষেত্রে মায়েদের বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে অনেক সমস্যা হয়। বাচ্চা ঠিকমত দুধ পায় না। কিন্তু এতে হতাশ হবেন না। মনে রাখবেন এক্ষেত্রে আপনি একা নন। আপনার স্বামী ও পরিবার আপনার সাথে আছে। আর প্রয়োজনে আপনি ডাক্তার বা হাসপাতালের সাহায্য নিতে পারেন।
• যতক্ষন পর্যন্ত বাচ্চা ঠিকমত দুধ না পাচ্ছে বাচ্চাকে মায়ের দুধ ছাড়া আর কিছু খাওয়ানো যাবে না ।তবে কোন মেডিকেল ইমারজেন্সি থাকলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার। তাই বাচ্চাকে দিনে প্রায় ৮-১২ বার মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।
স্তনপানে কি ব্যথা হয়?
স্তনপান বা বুকের দুধ খাওয়ানোই বাচ্চাকে খাওয়ানো সর্বোৎকৃষ্ট উপায়। কিন্তু তার মানে এই না যে, এটি খুব সহজ উপায়। আনেকের জন্যই এটি বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। ব্যথাও হতে পারে। অনেকেই বাচ্চার কথা ভেবে সহ্য করে যেতে পারে। কিন্তু এটি দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে যাবার বিষয় না। বরং এটি এই ব্যাপারের লক্ষন, যে আপনার বাচ্চা স্তনের সাথে ঠিকভাবে মানিয়ে নিতে পারছে না। মায়ের নিপল পুরোটা বাচ্চার মুখের অনেকটা ভিতর পর্যন্ত যেতে হবে।
স্তনপানের শুরুর দিকে যদি ব্যথা অনুভুত হয়, তবে নিপল ও বাচ্চার মাড়ির মধ্যে আঙ্গুল রেখে ব্যথা প্রশমিত করার চেষ্টা করুন। এবং ভাল একটি পজিশন না পাওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি চালিয়ে যান।
আপনি যখন বাইরে থাকবেন তখনও বাচ্চাকে খাওয়ানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। তাই বাইরে গেলে সবসময় সাথে একটি মোটা কাপড় বা তোয়ালে রাখুন। যাতে করে বাচ্চার প্রয়োজনে যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনি বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।