ToguMogu Pregnancy Series: সপ্তাহ ৩৯

আপনার সোনামণি এখন দুনিয়ার আলো দেখবার জন্য একদম প্রস্তুত। শেষ হতে চলছে আপনার এতদিনের ধৈর্যের। অভিনন্দন আপনাকে!

কিভাবে বেড়ে উঠছে আপনার সন্তান?

বাচ্চার বৃদ্ধি অনেকটাই সম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাচ্চা এখন কেবল শরীরের চারপাশে চর্বির স্তর তৈরি করছে যাতে করে বাইরের তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে কষ্ট না হয়। বাচ্চার ওজন এখন প্রায় ৭ পাউন্ড আর উচ্চতা প্রায় ২০ ইঞ্চির মত। অবশ্য মেয়েদের তুলনায় এখন ছেলেদের ওজন কিছুটা বেশিই। বাচ্চার বাইরের আবরনের ভিতরে ধীরে ধীরে পরিনত চামড়া গজাতে থাকে। আর আগের আবরন খসে যেতে থাকে। জন্মের পর এই আবরনেরই কিছু অংশ রয়ে যায়, আর তা জন্মের দাগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিভাবে বদলে যাচ্ছে আপনার জীবন?

ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি এখন আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যাবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ডাক্তার আপনার চেক-আপ করে দেখবে জরায়ুর মুখ পরিনত হয়েছে কিনা। যখন জরায়ুর মুখ নরম ও পাতলা হয় এবং মুখটা খুলতে শুরু করে, তখন তাকে পরিপক্ক বলা যায়। তবে ডাক্তাররা যতই পরীক্ষা নিরিক্ষা করুক না কেন, নিশ্চিত হয়ে কখনই বলতে পারবে না যে আপনার বাচ্চা কবে ভূমিষ্ঠ হতে যাচ্ছে।

অনেকক্ষেত্রেই এমন হয় যে আপনার নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও ডেলিভারির হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ডাক্তার আপনাকে এক ধরনের আলট্রাসাউন্ড টেস্ট করতে বলবেন। এতে আপনার বাচ্চা কি অবস্থায় আছে তা জানা যাবে। টেস্ট করে ডাক্তাররা ডিসিশনে আসবেন যে প্রেগনেন্সি চালিয়ে যাওয়া যাবে কিনা। আপনি যদি নিজ থেকে ডেলিভারির জন্য না যান, তবে অনেকক্ষেত্রে একটা সময় ডাক্তার নিজ থেকে আপনাকে ডেলিভারি করিয়ে ফেলতে বলবেন।

এসময় আপনার সবসময় খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চার গতিবিধির দিকে। বাচ্চা যদি হঠাৎ করে নড়াচড়া বন্ধ করে দেয় বা কমিয়ে দেয় তবে কিন্তু তা খুব একটা ভাল লক্ষন না। এরকম হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। আর যদি “ওয়াটার ব্রোক” এর মত ঘটনা ঘটে, তাও ডাক্তারকে জানাতে হবে। এভাবে জলের নিঃসরণ অল্প পরিমানেও হতে পারে আবার হঠাৎ একসাথে অনেক পরিমানেও হতে পারে। সাধারনত এরকম হঠাৎ একসাথে বেশি পরিমানে জলের নিঃসরণ ডেলিভারিরই ইঙ্গিত দেয়। তবে নিজ থেকে যাচাই না করে যেকোনো রকম পরিস্থিতিতেই ডাক্তারকে জানানো দরকার।

জেনে নিনঃ

বাচ্চার জন্মের পরের শারীরিক পরিবর্তনঃ

বাচ্চার জন্মের পর আপনার মুটিয়ে যাওয়া শরীর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে কিছুটা সময় লাগে। এসময়টাতে মন খারাপ করা উচিত না। আপনার এই ওজন বাড়তে প্রায় নয় মাস সময় লেগেছে। তাই আবার আগের মত দৈহিক গড়ন পেতে কিছুটা সময় লাগবে এটাই স্বাভাবিক।

বাচ্চার জন্মের পর সাথে সাথেই আপনার ওজন প্রায় অনেকটুকু কমে যাবে। ৭-৯ পাউন্ডের বাচ্চা, ১-২ কেজির প্লাসেন্টা, ২ কেজির রক্ত আর অ্যাম্নিওটিক ফ্লুইড বের হয়ে যাবার পর এমনিতেই প্রায় ১২ পাউন্ড ওজন কমে যায়। কিন্তু একেবারে আগের শরীরে ফিরে যাবার জন্য কিছুটা সময় লাগবে।

লোখিয়া নামক এক ধরনের ক্ষরণ হবে। জন্মের পর জরায়ুর কিছু কোষ মারা যায়। সেগুলোই এই ক্ষরন আকারে বের হয়ে আসে।

এসময় বেবি ব্লু এর শিকার হতে পারেন। বাচ্চা জন্মের কিছুদিন পর্যন্ত মা’র অকারনেই একটু মন খারাপ থাকে। ক্লান্ত লাগে। খাওয়া হঠাৎ বেড়ে বা কমে যায়। একেই বেবি ব্লু বলে। তবে এটি বেশিদিন স্থায়ী হয় না। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই মা স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এ সপ্তাহের কাজঃ

নার্সিং ব্রা কিনতে পারেনঃ

বেশির ভাগ মা-ই বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে পছন্দ করেন। যা কিনা বাচ্চার জন্য সর্বোত্তমও বটে। তবে বুকের দুধ খাওয়ালে নার্সিং ব্রা ব্যবহার করা ভাল। আপনার ব্রেস্ট আগের চেয়ে অনেক বড়। দুধ আসলে আরও স্ফীত হয়ে যাবে। নার্সিং ব্রা ব্যবহার করলে তাই আপনার জন্য সুবিধাই হবে। তাই এখনি কিনে ফেলুন। সম্ভব হলে ব্রেস্ট প্যাডও কিনে ফেলুন।

ToguMogu Logo

ToguMogu is a parenting app offering essential support from family planning to raising children up to age 10.

ToguMogu

Contact

  • +88 01958636805 (Customer Care)
  • [email protected]
  • House 9, Sonargaon Janapath Road, Sector 12, Uttara, Dhaka 1230, Bangladesh

Copyright © 2026 ToguMogu All rights reserved.