১৭ মাস বয়সী সন্তানের জন্য যা কিছু জানা প্রয়োজন

সাধারন বিষয় গুলোঃ

  • সিঁড়ি ধরে উঠতে শিখে।
  • ঘরের আসবাবপত্র যেমন চেয়ার, টেবিল, সোফা ইত্যাদির উপরে একা একা উঠতে পারে এবং নামতেও পারে।
  • নিজের পছন্দ এবং অপছন্দ প্রকাশ করে। বিশেষ করে খাবারের ক্ষেত্রে।

উচ্চতাঃ ৭৭.৭-৭৯.২সে.মি

ওজনঃ  ৯.৯-১০.৩কেজি

মাথার আকৃতিঃ ৪৫.৭-৪৬.৮ সে.মি

মূল পরিবর্তনঃ

আপনার শিশুকে নতুন নতুন খাবার দিলে সে প্রথমে সেটি নাও খেতে পারে। সেক্ষেত্রে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাকে বারবার খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। কয়েকবার ব্যর্থ হওয়ার পরে আপনি হয়তো সেই কাঙ্খিত খাবারটি আপনার বাবুকে খাওয়াতে সফল হবেন। আপনার বাবু এখন সব খাবার খেতে চাইবে না। তবে আপনাকে অবশ্যই তার তিন বেলা প্রধান খাবার এবং দুইবার হালকা নাস্তা দিতে হবে।

দৈহিক পরিবর্তনঃ

আপনার শিশু সন্তানের আঙ্গুলগুলো এখন অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সে কোন কিছু খামচি দিয়ে ধরতে শিখে। এছাড়াও সে তার জামার চেইন ধরে ওঠানামা করাতে পারে। এ সময় তার হাতে পেন্সিল দিলে সে কাগজের উপর দাগ টানতে পারে। সে এতদিনে তার ডায়পার খোলাও শিখে যায়। তার হাঁটা এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসে এমনকি সে দৌড়াতেও পারে। যদিও দৌড়াতে গিয়ে সে অনেক সময় ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যেতে পারে।

চিন্তার বিষয়ঃ

  • যদি সে নিজ হাতে কোন কিছু তুলতে না পারে।
  • যদি সে এখনো হাঁটা শুরু না করে।

বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তনঃ

আপনার বাবু এখন তার খেলনাগুলো বাছাই করে খেলা শুরু করে। তাকে বিভিন্ন আকার এবং রঙের ব্লক দিলে সে সেগুলো একটা একটা করে বাছাই করে খেলা করে। তাকে বিভিন্ন রং এর নাম শেখানো হলে সে সেই নির্দিষ্ট রংটি দেখিয়ে দিতে পারে। শুধু রংই নয় বরং তাকে যদি নির্দিষ্ট কাউকে দেখিয়ে দিতে বলা হয় সে সেটিও সুনিপুণভাবে করে ফেলে।

চিন্তার বিষয়ঃ

  • নতুন কোন  পরিবেশে সে যদি নির্লিপ্ত আচরণ করে।
  • নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির দ্বারা কিংবা পরিবেশে যদি সে ভয় পায় এবং কান্নাকাটি করে।
  • সে যদি তার উপযোগী সাধারণ কার্যকলাপ না করে।

মানসিক এবং আচরণগত পরিবর্তনঃ

এই বয়সে শিশু সঠিকভাবে তার হাসি, কান্না, ভয়, রাগ, অভিমান, হতাশা ইত্যাদি অনুভব করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী সে তার আবেগ প্রকাশ করে। নিজের আবেগের সাথে সে তার আশেপাশে থাকা অন্য মানুষদের আবেগেরও মূল্যায়ন করতে শিখে।

চিন্তার বিষয়ঃ

যদি আপনার শিশু স্বাভাবিক ভাবে তার আবেগ প্রকাশ না করে কিংবা অন্যের আবেগের সাথে বিচলিত না হয় তাহলে এটি একটি চিন্তার বিষয়।

স্বাভাবিক ঘুমের ধরনঃ

এই সময় শিশুদের খেলাধুলা এবং কর্মকাণ্ড অনেক বেড়ে যায়। তারা সব সময় অস্থির অবস্থায় থাকে। এ কারণে তারা সহজে ঘুমাতে চায় না। তবে আপনার উচিত নির্দিষ্ট সময় মতো আপনার শিশুকে ঘুম পাড়ানো। দিনের বেলা অধিকাংশ সময় যদি সে না ঘুমায় তাহলে বিকাল অথবা সন্ধ্যার দিকে সে ঘুমিয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে রাতে তার ঘুমাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। যার ফলে আপনি নিজেও রাতে ঘুমাতে পারেন না। তাই চেষ্টা করুন শিশুকে প্রতিদিন একই সময়ে এবং একইভাবে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার।

খাবার এবং পুষ্টিঃ

আপনার শিশুকে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন। তাকে খাওয়ার টেবিলে বসিয়ে নিজ হাতে খেতে দিন। সেইসাথে তাকে নানা রকম খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। এর ফলে সে নিজে হয়তো অল্প খেতে পারবে কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন খাবারের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হবে। ব্লেন্ড করা খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। ব্লেন্ড করা খাবারে কোন খাদ্যেরই সঠিক স্বাদ পাওয়া যায় না। যার ফলে খাবারের প্রতি শিশুর কোন আগ্রহ থাকে না। সে যদি একটি একটি করে আইটেম নিয়ে খাওয়া শুরু করে তাহলেই তার বিভিন্ন রংয়ের এবং স্বাদের খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং সে মজা করে খাবে। 

এক এক বাচ্চার খাবারের ধরণ এক এক রকম। কারোর হয়তো তিন চামচেই পেট ভরে যায় আবার কারো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্লেট শেষ করার পরেও তাকে এক্সট্রা খাবার দিতে হয়। তাই কখনোই আপনার বাচ্চাকে অন্য বাচ্চার সাথে তুলনা করতে যাবেন না। আগে তার খাবারের চাহিদা সম্পর্কে বুঝে তাকে সে অনুযায়ী খাবার দিতে হবে।

ক্যালরি এবং ফুড চার্টঃ

১৭ মাস বয়সী শিশুর দৈনিক ক্যালরি চাহিদা হলো ৮৭২.৩ কিলোক্যালরি। তার দৈনিক প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্ট গুলো-

বুকের দুধ: ৪০০-৫৫০ মিলি/দিন।

ফর্মুলা দুধ : প্রয়োজন নেই। 

গরুর দুধ (ফুল ক্রিম): ৪৭০-৭০০ মিলি/দিন।

প্রোটিন: ১৩ গ্রাম/দিন।

ফল/ফলের রস: ১১০ গ্রাম/দিন।

শাকসবজি: ১৫০ গ্রাম/দিন।

শস্য দানা: ৫৬ গ্রাম/দিন।

পানি: ২৪০  মিলি/দিন।

শিশুর দৈনিক ৩ থেকে ৪ বার তার প্রধান খাবার খাবে। ২০০ মিলি কাপ পরিমাণ খাবার সে প্রতিবেলা খাবে । পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ পান করবে।

যেসব বিষয়ে সাবধান থাকতে হবেঃ

আপনার আদরের সোনামণি এখন সারা ঘর জুড়ে বিচরণ করে।  এই সময় আপনাকে যথেষ্ট সাবধান হতে হবে । সবসময়ই তার সাথে সাথে থাকার চেষ্টা করুন। না হলে সে ব্যথা পেতে পারে এমনকি বিছানা থেকে নিচে পড়ে যেতে পারে। সে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রের পাল্লা, ড্রয়ার খুলতে চেষ্টা করে। সে ক্ষেত্রে এগুলোর সাথে ধাক্কা লেগে তার চোখমুখে এমনকি হাত-পায়ে ব্যথা লাগতে পারে। এইসব জিনিসের উপরে বাচ্চাদের উপযুক্ত সেফটি মেজারমেন্ট নিতে হবে। 

অভিভাবকদের জন্য টিপসঃ

আপনার শিশুকে বেশি বেশি বাহিরে খেলতে নিয়ে যান। এর ফলে সে খোলা জায়গায় স্বাচ্ছন্দে হাঁটতে এবং দৌড়োতে পারবে।আপনার সোনামণি এখন খেলার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী থাকে। তাকে নতুন নতুন খেলনা এনে দিন। বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক খেলনা যেমন ব্লক, পাজেল ইত্যাদি খেলনাগুলো তার বুদ্ধি বিকাশে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।এই বয়সে শিশুরা খুব বেশি পরিমাণে নতুন কিছু শিখতে শুরু করে। তাই তাদেরকে বেশি বেশি বই পড়ে শোনান। দিনে অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাদেরকে বই পড়ে শোনান। এছাড়াও তার সাথে গান করুন এবং তালে তালে নাচও করতে পারেন। তার হাতে রংপেন্সিল এবং কাগজ তুলে দিন যেন সে তার ছোট্ট হাত দিয়ে নিজের মনের মত আঁকিবুকি করতে পারে।

ToguMogu Logo

ToguMogu is a parenting app offering essential support from family planning to raising children up to age 10.

ToguMogu

Contact

  • +88 01958636805 (Customer Care)
  • [email protected]
  • House 9, Sonargaon Janapath Road, Sector 12, Uttara, Dhaka 1230, Bangladesh

Copyright © 2026 ToguMogu All rights reserved.