যেভাবে বেড়ে উঠছে আপনার সন্তানঃ
১৬ তম সপ্তাহ। আগামী কয়েক সপ্তাহ শিশু খুব দ্রুত বাড়বে। ওজন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন। এখন আপনার সন্তানের ওজন প্রায় সাড়ে চার আউন্স (১২৭ গ্রাম) এবং উচ্চতায় সাড়ে চার ইঞ্চি।

১৬তম সপ্তাহে আপনার শিশু সাড়ে ৪ ইঞ্চির একটি আভাকাডো বা নাসপাতির সমান শিশুর পা আগের চেয়ে অনেকটাই পরিনত। মাথাও বাঁকানো অবস্থা থেকে প্রায় সোজা হয়ে উঠছে। কান এখনও পুরোপুরি পরিনত হয়নি। কিন্তু ও বাইরের অনেক শব্দই শুনতে পায়। মাথায় চুলের একটা ধাঁচও দেখা দিয়েছে। ত্বক এখনও অনেক পাতলা। শিশুর এখন টনসিল তৈরি হচ্ছে। হৃদপিণ্ড দিনে প্রায় ২৫ কোয়ার্ট বা ২৪ লিটার রক্ত পাম্প করছে। দিন যত গড়াবে, হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনের পরিমান আরও বাড়তে থাকবে।
যেভাবে বদলে যাচ্ছে আপনার জীবনঃ
আপনার জরায়ুর অগ্রভাগ পিউবিক বোন আর নাভির মধ্য দিয়ে প্রায় অর্ধেক পথ এগিয়ে গেছে। জরায়ু যত বাড়ছে, জরায়ুর আশেপাশের লিগামেন্টগুলো ততই বড় হচ্ছে আর মোটা হচ্ছে। এসময় অবধি মা Pregnancy তে অভ্যস্ত হয়ে যায়। বমি বমি ভাব, হঠাৎ মুড বদলান কমে যায়। চেহারার ঔজ্জ্বল্য বেড়ে যায়। এসব কারনে মা অনেকটাই ভাল অনুভব করে। জলদিই আপনি শিশুর নড়াচড়া অনুভব করতে যাচ্ছেন। অনেক মা ১৬ তম সপ্তাহে প্রথম তা অনুভব করেন। তবে কেউ কেউ ১৮ তম সপ্তাহেও নড়াচড়া অনুভব করতে পারে না। এমনকি যারা ১ম বারের মত মা হচ্ছেন তারা ২০ তম সপ্তাহেও কিছু অনুভব না করতে পারে। প্রথমদিকে নড়াচড়ার অনুভুতি অনেকটা গ্যাস বাবলসের নড়াচড়া, প্রজাপতির উড়াউড়ি ইত্যাদির মতন লাগে। পরে কিক আর ধাক্কা গুলো অনেকটাই দৃঢ় হয়ে যাবে এবং আপনি তা আরও ভালভাবে এবং নিয়মিত অনুভব করবেন।
Pregnancy এর সময় ওজনবৃদ্ধিঃ
ওজন কতটুকু বাড়বে? যদি আপনি সঠিক ওজন নিয়ে Pregnancy শুরু করেন, তবে আগামী তিন মাসে প্রায় ৪ থেকে ৬ কেজি ওজন বাড়াতে হবে। তবে যদি কম বা বেশি ওজন নিয়ে Pregnancy শুরু করেন অথবা যদি আপনার গর্ভে যমজ সন্তান থাকে, তবে একটু বেশি বা কম ওজন বাড়াতে হতে পারে।
কিভাবে ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন করবেন?
আগামী তিন মাসের মধ্যে আপনাকে দৈনিক প্রায় ৩৪০ ক্যালরি অতিরিক্ত গ্রহন করতে হবে। তবে কতুটুকু অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহন করতে হবে তা আপনার ওজন আর কাজের পরিমানের ওপরও নির্ভর করবে।
ওজন যদি বেশি বেড়ে যায়?
Pregnancy এর সময় অনেকের ওজন প্রয়োজনের বেশি বেড়ে যায়। তবে এ সময় খাওয়া বাদ দেয়া বা ক্যালরির পরিমান কমিয়ে দেয়া ঠিক না। বরং নিচের পন্থাগুলো অনুসরন করুনঃ
একটা পুষ্টিকর নাস্তা দিয়ে দিনটা শুরু করুন। নাস্তায় পর্যাপ্ত পরিমান প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, আঁশজাতীয় খাবার, আর কিছুটা স্বাস্থ্যকর চর্বি জাতীয় খাবার খেতে পারেন। শাকসবজি, চর্বি বিহীন মাংস, কম ফ্যাটসমৃদ্ধ দুগ্ধজাত খাবার ইত্যাদিওঁ খাওয়া যেতে পারে। আর প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, বেশি মিষ্টি খাবার, প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার ইত্যাদি বাদ দেয়া উচিত।
স্ন্যাকস হিসেবে পনির, টক দই, বাদামের ঘি, গাজর ও অন্যান্য কাঁচা শাকসবজি আর তাজা ফল যেমন, আপেল আর কলা খাওয়া যায়।
চর্বিজাতীয় খাবারের একটা সুস্বাদু বিকল্প খুজে বের করুন। যেমন, আইসক্রিমের পরিবর্তে ফ্যাটছাড়া ঠাণ্ডা দই খেতে পারেন। পটেটো চিপসের বদলে পপকর্ন খেতে পারেন।
কোল্ড ড্রিংস বা জুসের পরিবর্তে বেশি করে পানি খান।
ডাক্তারের সাথে কথা বলে আপনার জন্য সহজ এমন কিছু ব্যায়াম বেছে নিন এবং নিয়মিত অনুশীলন করুন। এই কাজগুলো অনেকটা একঘেয়ে লাগতে পারে। তাই একজন সঙ্গী খুজে নিন যার সাথে আপনি সকালে হাটবেন, এক সাথে ব্যায়াম করবেন। এতে আপনার ব্যায়ামও হবে। আবার মনও ভাল থাকবে।
ওজন যদি সঠিক পরিমানে না বাড়ে? অনেক মহিলার ঠিকমত ওজন বাড়ে না। এমন অবস্থায় নিম্নোক্ত পন্থা অবলম্বন করলে সঠিক ওজন পাওয়া যেতে পারে।
দৈনিক মিল্কশেক পান করতে পারেন। মিল্কশেকে দুধের সাথে তাজা ফল মেশানো যেতে পারে। এতে ক্যালরি আর ক্যালসিয়াম দুটোর ঘাটতিই পুরন হবে।
ফ্যাটসমৃদ্ধ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া যায়। যেমন, বাদাম।
ড্রাই ফ্রুট খাওয়া যায়। এ থেকে অনেক ক্যালরি পাওয়া যায়।
সাধারন খাওয়ার সাথে রোজ প্রচুর পরিমানে স্ন্যাকস খাওয়া যেতে পারে।
Pregnancy এর সময় এভাবে ওজন বাড়তে থাকাতে অনেকক্ষেত্রেই মন খারাপ হতে পারে বা দুশ্চিন্তা হতে পারে। কিন্তু আসলে ওজন বাড়ানোটা আপনার ও আপনার শিশুর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে প্রতিদিন এটা মনে করিয়ে দিতে থাকুন।
এ সপ্তাহের কাজঃ
শিশুর জন্মের পর আপনি আর আপনার স্বামী বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়বেন ওকে নিয়ে। নিজেরা আর হয়তো আলাদাভাবে নিজেদের সময় দিতে পারবেন না। তাই এ সময়ে স্বামীর সাথে একটু শহরের বাইরে কোথাও ঘুরে আসুন। শহরের বাইরে যদি নাও যেতে পারেন নিজেরা নিজেদের মত করে কিছু সময় কাটান। রেস্টুরেন্টে খেতে যান। এক সাথে মুভি দেখুন। বাইরে ঘুরাঘুরির জন্য এটাই সবচেয়ে ভাল সময়। কারন আগামী দিন গুলোতে আপনার ক্লান্তির পরিমান অনেক বেড়ে যাবে। আর যেকোনো সময় ডেলিভারি হওয়ার একটা আশঙ্কাও থাকে। তাই এ সময়টার সঠিক ব্যবহার করা উচিত।