কিভাবে বেড়ে উঠছে আপনার সন্তান?
আপনার বাচ্চা এখন ওজনে ৫ আউন্স (১৪২ গ্রাম) আর উচ্চতায় প্রায় ৫ ইঞ্চি হয়ে গেছে। বাচ্চার নরম তরুনাস্থিগুলো এখন ধীরে ধীরে হাড়ে পরিনত হচ্ছে। ও শরীরের জয়েন্টগুলো খুব সহজেই নাড়াতে পারছে। ঘাম গ্রন্থি বিকশিত হচ্ছে। বাচ্চার কান এখন পুরোপুরি সুগঠিত এবং সঠিক স্থানে অবস্থান করেছে। তবে ত্বক এখন পুরোপুরি সচ্ছতা হারায়নি।
শরীরে ফ্যাটের আবরন তৈরি হওয়া শুরু হয় এবং ফ্যাট বাচ্চার ওজনের তিন ভাগের এক ভাগ ফ্যাট না হওয়া পর্যন্ত এটা চলতে থাকে। প্লাসেন্টার ভেতর অনেক রক্তনালি থাকে যা প্রতিনিয়ত বাচ্চার শরীরে পুষ্টি আর অক্সিজেনের যোগান দিতে থাকে। আম্বিলিকাল কর্ড আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ় আর লম্বা হয়। আর তার ভিতরে থাকে ২টা ধমনি আর একটা শিরা। আর বাচ্চার হার্ট মিনিটে ১৪০-১৫০ বার বিট করে।
কিভাবে বদলাতে যাচ্ছে আপনার জীবন?
দিন দিন পেট বাড়ছে। আপনার শরীর এখন স্বভাবতই একটু সামনের দিকে ঝুকে যাবে। হাটতে চলতে অসুবিধা হবে। তাই যেসকল ক্ষেত্রে হোঁচট খাওয়ার সম্ভাভনা আছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন, হিল পড়া বাদ দিতে হবে। গাড়িতে সিট বেল্ট লাগানোর সময় সাবধান থাকতে হবে। বেল্টের নিচের অংশটা পেটের নিচ দিয়ে লাগাতে হবে।
এসময় হয়তো আপনার চোখ শুকিয়ে যেতে পারে। এসময় ডাক্তার নির্দেশিত আই-ড্রপ ব্যবহার করলে আরাম হতে পারে। এসময় কন্টাক্ট লেন্স পড়াতে অসুবিধা হতে পারে। তাই বেশি সময় ধরে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা উচিত না। বরং এ কয়দিন চাইলে চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে।
জেনে নিনঃ
প্রেগনেন্সির সময় স্বপ্ন দেখাঃ
অনেক মহিলা বলেন, প্রেগনেন্সির সময় বিশেষ করে শেষ ছয় মাসে তারা অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেন। এসময় এমনিতেই কম ঘুম হয় আর এরকম কম ঘুমের মধ্যে এরকম স্বপ্ন দেখলে অদ্ভুত লাগা স্বাভাবিক। আর স্বপ্নগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ হয়। আর একটা স্বপ্ন শেষ হবার আগেই হার্টবার্ন বা বুকে জ্বলন, মাংশপেশিতে খিচ ধরা, মাথা ব্যাথা ইত্যাদি কারনে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আর স্বপ্ন দেখা অবস্থায় ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় অদ্ভুত সে স্বপ্নগুলো মনেও থাকে। কিন্তু কেন এমন হয়? কেন এরকম ঘন ঘন অদ্ভুত স্বপ্ন আসে?
আসলে প্রেগনেন্সির সময়টাতে বেশিরভাগ মহিলাই অত্যাধিক আবেগপ্রবন হয়ে যায়। আনন্দ থেকে দুঃখ সব আবেগই একটু বেশি করে অনুভব করে। আর ওই আবেগগুলোই স্বপ্নের মাঝে প্রতিফলিত হয়।
এসময়কার স্বপ্নের কিছু সাধারন বিষয় হচ্ছে-
বাচ্চা পশু প্রাণীর প্রতি ভালবাসা
এসময়ে অনেক প্রেগন্যান্ট মহিলাই বাচ্চা কুকুর, বিড়াল, ছোট বাচ্চা ইত্যাদিকে স্বপ্নে দেখে। এসব কিউট সৃষ্টির প্রতি মায়া মায়ের মধ্যে মাতৃত্বের জন্মের দিকেই ইঙ্গিত দেয়। এই স্বপ্নের মানে এই দারায় যে, মা ধীরে ধীরে বাচ্চার জন্য তার ভালবাসা অনুভব করা শুরু করেছে।
স্বামীর সাথে ভালবাসায় নতুন মাত্রা যোগ
এসময়ে কারো মনে স্বামীর প্রতি ভালবাসা বেড়ে যায়। আবার অনেকের মনে তাদের বাড়তি ওঁজনের কারনে শঙ্কা থাকে যে স্বামীর মনে তার জন্য আগের মত ভালবাসা আছে কিনা। উভয় রকম অনুভুতিই আপনার স্বপ্নের অপর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বামীকে নিয়ে সন্দেহ করা
প্রেগনেন্সির সময় মহিলারা মুটিয়ে যায়। তাই অনেকক্ষেত্রে এই নিয়ে চিন্তা থাকে যে তাদের স্বামী তাদেরকে কি আর আগের মত ভালবাসার নজরে দেখে কিনা। তাই তারা স্বপ্নের মধ্যে তাদের স্বামীকে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত দেখে। প্রেগনেন্সির এমন সময়ে স্বামীকে হারানোর এমন আশংকা মায়ের জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এসকল স্বপ্নের কোন প্রতিরোধ বা প্রতিকার নেই। তাই এই স্বপ্নগুলোকে নেহায়েত মজা হিসেবে দেখা উচিত।
এ সপ্তাহের কাজ
বাচ্চার সম্ভাব্য নামের লিস্ট তৈরি করে ফেলুন