ToguMogu থেকে আমরা Expecting Parents দের জন্যে প্রকাশ করছি Pregnancy Series. আজকের লেখায় আমরা এখানে তুলে ধরছি Pregnancy এর উনত্রিশ তম সপ্তাহ।
যেভাবে আপনার শিশুর বৃদ্ধি ঘটে
আপনি আপনার গর্ভধারণের ২৯ তম সপ্তাহে প্রবেশ করেছেন । এসপ্তাহে আপনার গর্ভস্থ শিশুটির ওজন ২.৫ পাউন্ড এবং দৈর্ঘ ১৫ ইঞ্চি এর মতো (পা থেকে মাথা পর্যন্ত) হয়েছে ।

তার মাংস পেশী এবং ফুসফুস পরিপক্ক হওয়া অব্যাহত আছে । তার মাথার আকৃতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমবর্ধমান মস্তিষ্ক কে ধারণ করার জন্যে । ক্রমবর্ধমান পুষ্টির চাহিদার প্রেক্ষিতে আপনার প্রচুর পরিমান আমিষ, ভিটামিন C , ফলিক অ্যাসিড এবং লৌহ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। তার হার সুগঠিত ও সাবলীল হওয়ার জন্যে যেহেতু প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম দরকার তাই এসময় আপনার পর্যাপ্ত পরিমান দুধ পান করা উচিত । তাছাড়া ক্যালসিয়াম এর অন্যন্য উৎস যেমন পনির , দই এবং কমলার রস পান করা উচিত । এই ত্রৈমাসিক এ আপনার শিশুর হাড়গুলো মজবুত করার জন্যে প্রতিদিন ২৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এর দরকার ।এই পরিমান ক্যালসিয়াম সে আপনার মাধ্যমেই গ্রহণ করবে । সুতরাং পর্যাপ্ত পরিমান ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা আপনার জন্যে খুবি জরুরি।
যেভাবে পরিবর্তন আসে আপনার জীবনে
এসপ্তাহে আপনার শিশুটি অত্যন্ত সক্রিয় । তার সক্রিয়তার জানান দিচ্ছে প্রতিমুহূর্তে মৃদু পদাঘাতে। আপনি আনন্দিত এবং রোমাঞ্চিত হচ্ছেন আপনার শিশুরটির ক্রমবৃদ্ধি প্রাপ্ত সক্রিয়তায় । আপনার ডাক্তার হয়তো এসপ্তাহে আপনাকে উপদেশ দিবেন এই সক্রিয়তা তথা পদাঘাত গুলোর হিসাব রাখার জন্যে । আপনি হিসাব রাখুন প্রতি ঘন্টায় কতটি পদাঘাত সে করে । হিসাবের এই চার্ট টি পরবর্তীতে প্রসবের আগে পর্যন্ত দরকার হবে ।
এ ব্যাপারে আপনার চিকিৎসক হয়তো আরও নির্দিষ্ট করে নির্দেশনা দিবেন । মনে রাখবেন তার এই পদাঘাত তথা সক্রিয়তা তার স্বাভাবিক সুস্থতার ইঙ্গিত করে । কখনো যদি এই সক্রিয়তা অনেকটাই কমে যায় তবে দ্রুত আপনার চিকিৎসককে জানান । আপনার শিশুর পরীক্ষার জন্য আপনার একটি নন স্ট্রেস টেস্ট (NST) বা বিঅফিসিকাল প্রোফাইল দরকার হবে ।
এ সময় আবার আপনার সেই পুরোনো রোগ গুলি যেমন বুক জ্বালা করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে । আপনার গর্ভাবস্থার হরমোন প্রোজেস্টেরন পরিপাক তন্ত্র সহ শরীরের মসৃন টিসু গুলো নিথর করে দেয় । এই শিথিলতার কারণে আপনার পেটের হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় । হজম প্রক্রিয়া ধীর হওয়ার কারণে আপনি ভুগতে পারেন গ্যাসের সমস্যায় এবং কোষ্টকাঠিন্যে । বিশেষ করে গুরুপাক খাবার বা বেশি তৈল সমৃদ্ধ খাবার পরে । গ্যাসের কারণেই আপনার বুক জ্বালা করতে পারে ।
আপনার বৃদ্ধি প্রাপ্ত গর্ভাশয় এর কারণে আপনি অর্শ্ব রোগে আক্রান্ত হতে পারেন ।অর্শ্ব রোগ মলদ্বারে প্রদাহ জনিত একটি রোগ । এ রোগে কখনো বা মলদ্বার দিয়ে রক্ত পাত্ ও হতে পারে । এসময় মলদ্বারের চারপাশে ফুলে ওঠা ব্যাথা হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার । সৌভাগ্য বসত সন্তান জন্মদানের সপ্তাহ খানেক এর মধ্যে এই রোগটির উপশম হবে । ঐসব স্থানে যদি চুলকায় অথবা ব্যাথা করে তবে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিংবা হালকা গরম শেখ দেয়ার চেষ্টা করুন । দীর্ঘসময় কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা বা একভাবে বসে থাকা থেকে বিরত থাকুন । কোনো ঔষধ গ্রহণের আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তার এর সাথে কথা বলুন । আসলে গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই গ্রহণ করা উচিত নয় । যদিও ও গুলো আপনি গর্ভাবস্থার আগে সচরাচর ব্যাবহার করেছেন । এ অবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য মুক্ত হবার জন্যে প্রচুর আশ যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন । প্রচুর শাকসবজি এবং ফল খাবার তালিকায় রাখুন । প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন এবং নিয়মিত বেয়াম করুন ।