আপনার ছোট্ট সোনামণির প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ সাধারণত বেশ শান্ত কাটে। এইসময় শুধু ঘুমানো, খাওয়া আর আপনার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া সে আর কিছুই করে না। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই একদিন দেখবেন, আপনার শিশু লম্বা সময় ধরে কান ফাটানো চিৎকার করে কাঁদছে! সাথে তার হাত মুঠো করা, পা ছোড়াছুড়ি করা আর কান্নায় মুখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
যখন প্রতিদিন, বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর এই কান্নার পালা চলতেই থাকে, তখন বুঝবেন আপনি হয়তো নতুন বাবা-মা হওয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটির মুখোমুখি হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একেই বলে কোলিক (Colic)।
নতুন বাবা-মায়ের জেনে রাখা ভালো যে, কোলিক কোনো রোগ নয়। বরং এটি একটি সাময়িক অবস্থা। মনে রাখবেন, আপনার শিশুই একমাত্র নয়, গবেষণা অনুযায়ী বিশ্বের প্রতি ৫ জন সুস্থ শিশুর মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় ভুগে থাকে।
কোলিক কী?
কোলিক হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন সম্পূর্ণ সুস্থ শিশু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে জোরে কাঁদে বা অস্বাভাবিকভাবে অস্থির থাকে। এসময় কোনো কিছুতেই শিশুকে শান্ত করা না যাওয়ায় বাবা-মায়েরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। এই সমস্যা সাধারণত সন্ধ্যার দিকে বেশি দেখা যায়,যখন বাবা-মায়েরা এমনিতেই সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত থাকেন!
কোলিক কখন শুরু ও শেষ হয়?
সবচেয়ে স্বস্তির খবর এই যে, কোলিক চিরকাল থাকে না! এটি শিশুর একটি সাময়িক বিকাশের পর্যায় মাত্র। সাধারণত কোলিকের একটি নির্দিষ্ট সময়চক্র থাকে:
- শুরু (২ থেকে ৩ সপ্তাহ বয়সে): বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই এই সময়ে কোলিকের কান্না শুরু হয়।
- সবচেয়ে কঠিন সময় (৬ সপ্তাহ বয়সে): এই সময়ে কান্নার তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। মা-বাবার জন্য এই সপ্তাহটি পার করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হয়।
- কমতে শুরু করে (১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে): ধীরে ধীরে কান্নার বেগ কমতে থাকে এবং শিশু কিছুটা শান্ত হতে শুরু করে।
- একেবারে বিদায় (৩ থেকে ৪ মাস বয়সে): বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রেই ৩ মাস পূর্ণ হলে কোলিক ম্যাজিকের মতো হুট করেই গায়েব হয়ে যায়! তবে খুব কম ক্ষেত্রে কিছু শিশুর এটি ৬ মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
কোলিকের এই সমস্যাটি হুট করে থেমে যেতে পারে অথবা ধীরে ধীরে কমতে পারে। মাঝেমধ্যে কিছু দিন ভালো যাবে আবার কিছু দিন খারাপ। এভাবেই একসময় ভালো দিনের সংখ্যা বাড়বে এবং আপনি বুঝতে পারবেন যে এই কঠিন সময়টি পার হয়ে গিয়েছে।
| প্রিম্যাচিউর শিশুদের জন্য নোট: আপনার শিশু যদি প্রিম্যাচিউর হয়, তবে এই সপ্তাহের হিসাবগুলো তার জন্মের তারিখ থেকে না করে, ডাক্তারের দেওয়া ‘ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ’ (Due Date) থেকে হিসাব করুন। তাই তাদের ক্ষেত্রে কোলিক একটু দেরিতে শুরু এবং দেরিতে শেষ হতে পারে। |
আপনার শিশুর কোলিক রয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?
কোলিক শিশুরা সাধারণত সম্পূর্ণ সুস্থই থাকে, তাদের শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয় এবং ওজনও ঠিকমতো বাড়ে। তাহলে আপনি নিশ্চিত হবেন কীভাবে যে আপনার শিশুর কোলিক রয়েছে? এক্ষেত্রে ডাক্তাররা সাধারণত “রুল অফ থ্রি” (Rules of Three) বা ‘তিনের নিয়ম’ দিয়ে এটি শনাক্ত করেন। এই নিয়মে আপনার শিশুর কোলিক থাকতে পারে যদি সে:
- দিনে অন্তত তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে কান্না করে।
- সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এমনটা ঘটে।
- এবং টানা অন্তত তিন সপ্তাহ ধরে এই কান্নার ধারা চলতে থাকে।
তবে সব শিশুর লক্ষণ হুবহু এক নাও হতে পারে। তাই শুধু সময় নয়, শিশুর কান্নার ধরন এবং নিচের লক্ষণগুলোর দিকেও নজর রাখুন:
কান্নার ধরণ ও সময়
- নির্দিষ্ট সময়: কান্না সাধারণত প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে শুরু হয় (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে, তবে সবসময় এমনটা নাও হতে পারে)।
- কোনো কারণ ছাড়া কান্না: আপাতদৃষ্টিতে কান্নার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না (যেমন: ডায়াপার পরিষ্কার, পেট ভরা এবং সে ক্লান্তও নয়)। এই কান্নার বেগ এত বেশি হয় যে মনে হতে পারে শিশু ব্যথায় ছটফট করছে।
শারীরিক পরিবর্তন
- শরীর শক্ত করা: কান্নার সময় শিশু তার হাত শক্ত করে মুঠো করে রাখে, পিঠ ধনুকের মতো বাঁকিয়ে ফেলে এবং পা পেটের কাছে গুটিয়ে নেয়।
- পেটের অস্বস্তি: শিশুর পেট একদম টানটান বা শক্ত হয়ে থাকে। এই সময়ে পেটে গ্যাস সমস্যা বা দুধ তুলে দেওয়ার (Spit up) প্রবণতা বেড়ে যায়।
- চেহারার পরিবর্তন: দীর্ঘক্ষণ কান্নার ফলে শিশুর মুখ একদম লালচে হয়ে যায়, কপালে ভাঁজ পড়ে এবং শিশু চোখ শক্ত করে বন্ধ করে বা বড় বড় করে তাকায়। এমনকি কান্নার মাঝে কিছুক্ষণ দম আটকে রাখতে পারে।
খাওয়া ও ঘুমের আচরণ
- খাওয়ায় অস্থিরতা: শিশু অস্থির হয়ে বুকের দুধ বা ফিডারের নিপল খুঁজতে থাকে, কিন্তু মুখে দেওয়ার পরপরই আবার কান্নাকাটি করে ছেড়ে দেয়।
- ঘুম ভেঙে যাওয়া: শিশু শান্তভাবে ঘুমাতে পারে না। কিছুক্ষণ ঝিমুনি আসার পরেই আবার হঠাৎ চিৎকার করে জেগে ওঠে।
এটি কোলিক না কি অন্য কিছু?
সব সময় একটানা কান্না মানেই কিন্তু কোলিক নয়। সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস বয়সের পর কোলিকের কান্না নিজে থেকেই কমে আসে। আপনার শিশুর বয়স ৪ মাস পার হওয়ার পরও যদি সে একইভাবে কাঁদতে থাকে, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকার সম্ভাবনা বেশি।
নিচে এমন কিছু সাধারণ সমস্যার কথা বলা হলো, যেগুলোর কারণে শিশু কোলিকের মতোই অনবরত কাঁদতে পারে:
কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation)
কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় পেট ব্যথায় শিশুরা বিরক্ত বা খিটখিটে হয়ে উঠায় অতিরিক্ত কান্না করতে পারে।
খাবারে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা (Food Allergy or Sensitivity)
ফর্মুলা দুধ খাওয়া শিশুদের গরুর দুধের প্রোটিনে অ্যালার্জি (CMPA) থাকলে তা পেটে ব্যথা ও কোলিকের মতো উপসর্গ তৈরির একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। আবার বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের মায়ের খাওয়া কোন খাবারে (গরুর দুধ, ডিম, বাদাম, সয়া) অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ায় কোলিকের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
এমন মনে হলে ডাক্তারের পরামর্শে মায়ের খাবার তালিকা থেকে কিছুদিনের জন্য অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া করা খাবার বাদ দিয়ে বা শিশুর ফর্মুলা পরিবর্তন করে দেখতে পারেন।
রিফ্লাক্স (Reflux)
এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে পাকস্থলীর অ্যাসিড গলার দিকে উঠে আসে, কারণ শিশুর পাকস্থলীর পেশিগুলো এখনো পরিণত হয়নি। এর লক্ষণগুলো হলো ঘন ঘন দুধ তুলে দেওয়া, ঠিকমতো খেতে না চাওয়া এবং খাওয়ার সময় বা পরে পিঠ বাঁকা করে কান্না করা। তবে রিফ্লাক্স এবং কোলিক একই বিষয় না হলেও এদের লক্ষণগুলো অনেকটা একই। শিশুদের ক্ষেত্রে রিফ্লাক্স বেশ সাধারণ একটি বিষয় এবং সাধারণত কয়েক মাস পর এটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
কানের ইনফেকশন (Ear Infection)
ছোট শিশুদের ঠান্ডা লাগার পর কানে ইনফেকশন হওয়া খুব সাধারণ বিষয়। কানে তীব্র ব্যথা হলে শিশু একটানা কাঁদতে থাকে। বিশেষ করে শুইয়ে দিলে কান্নার বেগ বাড়ে এবং শিশু বারবার কানের কাছে হাত দেয় বা মাথা এপাশ-ওপাশ করতে থাকে।
প্রস্রাবে ইনফেকশন (UTI)
শিশুদের প্রস্রাবে ইনফেকশন হলেও তারা ব্যথায় অনবরত কাঁদতে পারে। প্রস্রাব করার সময় শিশু চিৎকার করে কাঁদলে বা স্বাভাবিকের চেয়ে শরীর বেশি গরম মনে হলে (জ্বর) চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শিশুদের কোলিক কেন হয়?
শিশুর কোলিকের সঠিক কারণ কি এবং কেন কিছু শিশুর এটি হয় আর অন্যদের হয় না তা আজও একটি রহস্য। তবে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন, যা এই অতিরিক্ত কান্নার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে:
অপরিণত স্নায়ুতন্ত্র (Immature Nervous System)
অনেক ডাক্তার কোলিককে একটি স্বাভাবিক বিকাশের পর্যায় হিসেবে দেখেন। গর্ভের শান্ত পরিবেশের বাইরে এসে নতুন জগতের আলো, শব্দ ও গন্ধের সাথে মানিয়ে নিতে শিশুর অপরিণত স্নায়ুতন্ত্র অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই উত্তেজনায় ক্লান্ত হওয়া সামলাতে না পেরে তারা কান্নার মাধ্যমে তা প্রকাশ করে।
অপরিণত পরিপাকতন্ত্র (Immature Digestive System)
জন্মের পর শিশুর পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি তৈরি হতে কিছুটা সময় নেয়। ফলে খাবার হজমে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা হতে পারে, যা থেকে পেটে গ্যাস জমে। এছাড়া, দীর্ঘ সময় কান্নার ফলে শিশু অনেক বাতাস গিলে ফেলে, যা তার পেটের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ (Tobacco exposure)
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় বা সন্তান জন্মের পর মা বা ঘরের কেউ ধূমপান করলে শিশুর পরিপাক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে। এর ফলে শিশুর কোলিক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কোলিক নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা
কোলিকের আসল কারণগুলো এখনো ভালোভাবে জানা যায়নি। তবে গবেষণায় নিচের বিষয়গুলো কোলিকের ঝুঁকি বাড়ায় বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি:
– ছেলে ও মেয়ে শিশুর কোলিক হওয়ার হার সমান।
– শিশুর প্রিম্যাচিউর বা ফুলটার্মে জন্মানোর ওপর কোলিক নির্ভর করে না।
– উভয় মায়ের বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ খাওয়া শিশুরই কোলিক হতে পারে।
– পরিবারের প্রথম সন্তান নাকি পরের সন্তান, এর সাথে কোলিকের কোনো সম্পর্ক নেই।
| একটি জরুরি নোট: ক্রমাগত কান্না বাবা-মায়ের মানসিক চাপ বাড়ায়, কিন্তু বাবা-মায়ের মানসিক চাপের কারণে শিশুর কোলিক হয় না। শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী বাবা-মায়ের শিশুরও কোলিক হতে পারে। তাই নিজেকে দোষী ভাববেন না। |
আপনার শিশুকে কখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন?
যদি আপনার শিশু অনবরত কাঁদে এবং কোনোভাবেই তাকে শান্ত করা না যায়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে সম্ভব হলে এই তথ্যগুলো একটু নোট করে রাখুন:
- শিশু দিনে কতবার এবং কখন সবচেয়ে বেশি কাঁদছে?
- কান্নার সময় তার শরীরে অন্য কোনো পরিবর্তন (যেমন: হাত-পা শক্ত করা) দেখছেন কি না?
- খাওয়ার ধরণ বা মলের রঙে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না?
এই তথ্যগুলো ডাক্তারকে দ্রুত সমস্যা বুঝতে সাহায্য করবে।
জরুরি সতর্কতা: কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
মনে রাখবেন, সাধারণ কোলিকের কান্নায় শিশু অন্য সময়ে সুস্থ থাকে। কিন্তু কান্নার পাশাপাশি যদি নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে তৎক্ষণাৎ ডাক্তার বা হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে যোগাযোগ করুন:
- অস্বাভাবিক কান্না: যদি খুব দুর্বলভাবে, একদম চড়া সুরে, বা একটানা অস্বাভাবিক স্বরে কাঁদে।
- নিস্তেজ ভাব: কোলে নিলে যদি শরীর একদম ছেড়ে দেয় বা নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
- খাওয়ায় অনীহা: একেবারেই দুধ খেতে না চাইলে।
- শ্বাসকষ্ট: খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাস নেওয়ার সময় বুক দেবে যাওয়া ও ঘড়ঘড় শব্দ হওয়া।
- জ্বর: শিশুর বয়স ৩ মাসের কম হলে জ্বর ১০০.৪°F বা তার বেশি হওয়া অথবা ৩ থেকে ৬ মাস বয়স হলে জ্বর ১০২°F বা তার বেশি হলে।
- ত্বকের রঙ পরিবর্তন: গায়ের রঙ নীলচে, ফ্যাকাশে বা ধূসর দেখালে।
- বমি ও মল: সবুজ রঙের বমি করলে কিংবা মলের সাথে রক্ত গেলে।
- প্রস্রাব কমে যাওয়া: স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব করলে (ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ)।
বাবা-মায়ের জন্য কিছু আশ্বাস
যদি উপরের কোনো লক্ষণ না থাকে এবং ডাক্তার নিশ্চিত করেন যে এটি শুধুই ‘কোলিক’, তবে দুশ্চিন্তা কমিয়ে ফেলুন। কোলিক আপনার শিশুর বিকাশে বা শরীরে কোনো ক্ষতি করে না।
বরং, শিশুর এই অনবরত কান্না সামলানো আপনাদের জন্য অনেক বড় মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো নিজের মনকে শান্ত রাখা। মনে রাখবেন, এই কান্নার জন্য আপনি বা আপনার যত্ন কোনোভাবেই দায়ী নয় এবং এটি কোনো স্থায়ী সমস্যাও নয়। একটু ধৈর্য ধরুন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই কঠিন সময়টুকু ঠিকই কেটে যাবে।