ToguMogu
ToguMogu
article.title
 Jun 10, 2019
 979

শিশুকে ধমকের উপর রাখছেন না তো?

শিশুরা যখনই এমন কিছু করতে চায় যা আমাদের পছন্দ নয় আমরা প্রথমেই যা করি তা হল ওদেরকে ধমক বা Threat দেই। কিন্তু এটা ওদের উপর ঠিক কতটা খারাপ প্রভাব ফেলে তা আমরা বুঝতে পারি না। যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজের বাবা মারা এইভাবেই সন্তানদের মানুষ করে আসছে। তাই এর ভিতর থেকে বের হয়ে আসা অনেকটাই কঠিন। কিন্তু শিশুর মানসিক বিকাশ যদি সুষ্ঠভাবে ঘটাতে চান তাহলে আপনাকে এই প্রথার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে।

যেভাবে ধমকের পরিবর্তে কাজ হতে পারেঃ

 

১. ওদেরকে দুটা অপশন দিন। বলুন আপনি যে কাজটি করতে বলছেন তা যদি ও না করে তাহলে আপনি নিজেই তা করবেন। কখনই একটি কাজ করতে ওদের বাধ্য করবেন না। শিশুরা যদি এমন কিছু করতে চায় যা আপনার নজরে ভাল না তাহলে ওদেরকে কাজটির ভাল এবং খারাপ দুই দিক সম্পর্কে বলুন এবং ওদেরকে সুযোগ দিন ভাল এবং খারাপ দুটির মধ্যে থেকে একটি বেঁচে নেয়ার। সবসময় ধমক দিয়ে কাজ করালে শিশুদের মধ্যে আত্মমর্যাদা বোধ গড়ে উঠাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শিশুরা সবসময় স্বতঃস্ফূর্ত থাকতে ভালবাসে। কিন্তু ওরা যদি ছোট বয়স থেকেই ধমক খেয়ে খেয়ে বড় হয় তাহলে ওদের স্বতঃস্ফূর্ততা ধীরেধীরে হারিয়ে যায়।

 

২. শিশুদের সাথে কথা বলার সময় একটু ভেবে চিনতে বলুন। অনেক কঠোর কথাও সুন্দর করে বললে শিশুরা শুনে। আবার অনেক ভালো কথাও তারা শুনতে চায় না। কারন হতে পারে আপনি ওকে এমন ভাবে বলেছেন যা ওর পছন্দ হয় নি এবং ও জেদের বসে আপনার কথা শুনছে না। শিশুদের সাথে নরম গলায় বুঝিয়ে কথা বললে ধমক দেয়ার প্রয়োজনই পরবে না কখনও।

 

৩. শিশুদের ধমক দিলে ওরা বাবা মাকে সবসময় ভয় পেতে থাকে। যার ফলে কখনও যদি কোন ভুল করে থাকে তাহলে ওরা তা লুকানোর চেষ্টা করে। যা পরবর্তীতে হয়ত বড় কোন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেহেতু শিশুরা বাবা মার কাছ থেকেই সবকিছু শেখে তাই আপনি নিজেও যদি কখনও কোন ভুল করে থাকেন তবে তা স্বীকার করবেন। তাহলে ওরাও সাহস পাবে আপনাদের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করার।

 

৪. শিশুরা যে বয়সেরই হোক না কেন ওরা সবসময়ই চায় বড়দের মত আচরণ করতে বা বড়দের কাজগুলি করতে। কোথাও যাবার আগে যদি আপনার মনে হয় সেখানে গিয়ে শিশু আপনার কথা শুনবে না বা আপনার অবাধ্য হবে, তাহলে আগেই তার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলে নিন। ওকে আপনার বোঝাতে হবে আপনি ওর কাছ থেকে কেমন আচরণ আশা করছেন, আপনি একা হয়ত অনেক কাজ করতে পারবেন না সেক্ষেত্রে ওর সাহায্যের দরকার পড়তে পারে আপনার। দেখবেন ও ঠিকই বড়দের মত দায়িত্ব নেয়া শুরু করেছে। আপনাকে সবসময় তার প্রতি নজর রাখতে হচ্ছে না।

 

৫. রাগের মাথায় মাঝে মাঝে আমরা আমাদের বাচ্চাদের বড় বড় শাস্তির ভয় দেখাই যা পরবর্তীতে হয়ত দেয়া হয় না। কিন্তু প্রতিবার মিথ্যা ভয় দেখানোর কথা বললে একসময় ওরা আর ভয় পাবে না। আমরা জানি বাবা মা হিসেবে আপনাদেরকে কতো কষ্টই না করতে হয়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন কি লাভ এত কষ্ট করে যদি সবশেষে আপনার শিশু আপনার অবাধ্য হয়ে যায়। তাই ওদের সাথে রাগারাগি না করে মাথা সবসময় ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করবেন। ধমকের পরিবর্তে আর কি করা যায় তা নিয়ে একটু চিন্তা করবেন। মনে রাখবেন যেহেতু শিশু আপনার তাই ওর বিষয়ে যেকোনো সমস্যার উত্তম সমাধান আপনিই বের করতে পারবেন।

 

৬. অনেক সময় বাবা মা হিসেবে আমরা আমাদের বাচ্চাদের কাছ থেকে একটু বেশিই আশা করে বসি। যা আসলে ঠিক নয়। অনেকেই মনে করতে পারেন বেশি আসা করতে ক্ষতি কি কিন্তু আপনার খানিকটা বেশি আশা যদি ও পুরণ করতে না পারে তাহলে তা ওকে হতাশ করে ফেলতে পারে যা ভবিষ্যতে ওর মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

 

সুতরাং নিজের সন্তানকে প্রথমে বোঝার চেষ্টা করুন। ওকে নিজের কথা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য না করে বরং আদর করে কাছে টেনে নিয়ে বোঝান তারপর ওদের সুযোগ করে দিন নিজের ভাল নিজেই বোঝার। এবং সবসময় ওদেরকে অনুভব করানোর চেষ্টা করুণ যে ওদের উপর আপনার আস্থা আছে।

 

একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, আজকে থেকে ধমক বন্ধ করলে যে ও আজকে থেকেই সব কথা শোনা শুরু করবে তা কিন্তু না। একটু সময় দিতে হবে ধৈর্য্য নিয়ে।

 

সন্তানের সৃজনশীলতার চর্চা করান কিডসটাইমের কোর্সে।কিডসটাইমের কোর্স গুলো দেখতে ভিজিট করুন নিচের লিংকে : 

https://togumogu.app/Kids-Creative-Course

 

ToguMogu App