ToguMogu
ToguMogu
article.title
 Jun 10, 2019
 3878

আপনার সন্তান কি মারমুখী? কেন মারমুখী এবং এক্ষেত্রে কি করণীয়?

কেন বাচ্চারা মারমুখী বা আক্রমনাত্মক হয়?অবাক লাগলেও সত্যি যে,বাচ্চাদের Aggressive আচরণ একটি স্বাভাবিক বিষয়। 

অনেক বাচ্চাই আছে সহপাঠীদের খেলনা কেড়ে নেয়, আঘাত করে, চিৎকার করে মুখ নীল বানিয়ে ফেলে। ৩ থেকে ৮ বছর বয়সী বাচ্চারা নতুন নতুন দক্ষতা শিখছে প্রতিনিয়ত। সেটা হতে পারে কেঁচি ধরা, জটিল বাক্য বলা ইত্যাদি। এই বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে একটুতেই বিরক্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এই বয়সেই বাচ্চারা প্রি-স্কুল শুরু করে, অর্থাৎ বাসার বাইরে থাকার সাথে ওদের পরিচয় হয়। অনেক বাচ্চাই স্কুলে থাকাবস্থায় বিরক্তবোধ করে অথবা নিজেকে অবহেলিত অনুভব করতে থাকে। এই রকম পরিস্থিতিতে অন্যকোন শিশু ওকে সামান্য বিরক্ত করলেও ও প্রতিশোধ হিসেবে ওই শিশুর সাথে ধাক্কাধাক্কি বা মারামারিতে জড়িয়ে যায়। আর একটা কারণ হতে পারে বাচ্চার ক্ষুধা লেগেছে বা সে ক্লান্ত। ক্ষুধা লাগলে বাচ্চারা বুঝতে পারেনা কিভাবে তা প্রকাশ করবে। তাই দেখা যায় যে খিদে পেলে এই বয়সী বাচ্চারা কাউকে মেরে,খামচি দিয়ে বা প্রচুর কান্নাকাটি করে তা প্রকাশ করে। শুধু প্রি স্কুল না, স্কুলে পড়ুয়া বাচ্চাও আছে যারা নিজের রাগ নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। অনেক বাচ্চারই স্কুলে শিখতে সমস্যা হয়। যার ফলে তারা পড়া শুনতে, বুঝতে ও পড়তে বাঁধার সম্মুখীন হয়। এতে করে স্কুলে তাদের মন বসে না এবং তারা ভেতরে ভেতরে হতাশ হয়ে পরে। তার সাথে যদি যুক্ত হয় পারিবারিক কলহ (বাবা মার ঝগড়াঝাঁটি কিংবা বিচ্ছেদ) তাহলে তো কথাই নেই। এসব কিছু তার ভিতর থেকে বের হয় মারমুখী কিংবা আক্রমণাত্মক আচরণের মাধ্যমে। কারণ যাই হোক না কেন আপনার বাচ্চার এই মারমুখী আচরণ তখনি বন্ধ হবে যখন সে তার হাত-পা ব্যবহারের পরিবর্তে উপযুক্ত বাক্য ব্যবহার করে কথা বলতে শিখবে। অন্য বাচ্চাদের আঘাত না করেও যে কথা বলে কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে তা তাকে যত তযেভাবে আপনি আপনার বাচ্চার এমন Aggressive আচরণ বন্ধ করতে পারেনঃ

১. আপনি আপনার বাচ্চার আচরণে যতই অখুশি হউন না কেন কখনই তার গায়ে হাত দিবেন না বা তাকে বলবেন না যে সে অন্য বাচ্চাদের থেকে খারাপ।বরং আপনি যা করতে পারেন তা হল তাকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসুন।

২.যদি মনে হয় আপনার বাচ্চা রেগে গিয়ে কারও গায়ে হাত তুলতে যাচ্ছে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটকান। এটার অপেক্ষায় থাকবেন না যে কারও গায়ে হাত তুলার পর তাকে আটকাবেন। আপনার বাচ্চা যদি প্রিস্কুলার হয় তবে সবার প্রথমে তাকে ওই জায়গা থেকে বের করে আনবেন তারপর তাকে একা একঘরে রেখে আসবেন। সেখানে সে একা একাই নিজের রাগ শান্ত করবে। আর আপনার বাচ্চা যদি বড় হয়ে থাকে তাহলে শাস্তি স্বরূপ তার টিভি দেখা কমিয়ে দিতে পারেন, তার পকেট মানি কমিয়ে দিতে পারেন অথবা এমন কিছু করবেন যা তাকে বুঝাতে সাহায্য করবে যে সে যদি চিল্লাচিল্লি করে বা অন্য বাচ্চার গায়ে আর একবার হাত তুলে তাহলে তার প্রিয় কোন জিনিস তাকে হারাতে হবে।

৩.আপনার বাচ্চা যতবারই এমন আচরণ করবে ততবারই তার সাথে আপনিও একই আচরণ করবেন অর্থাৎ তাকে আলাদা কোন ঘরে একা রেখে আসবেন অথবা তার প্রিয় জিনিস তার কাছ থেকে নিয়ে নিবেন।এতে করে সে যতবারই খারাপ আচরণ করতে যাবে ততবারই তার মনে হবে যে এর বিনিময়ে তাকে কিছু হারাতে হতে পারে। তখন সে সেসব কাজ আর করতে চাইবে না। এমনও হতে পারে যে অনেক মানুষের সামনে সে এমন আচরণ করে বসল। এসময় সে চিন্তা করতে পারে যে মানুষের সামনে আপনি তাকে হয়ত কিছু বলবেন না। কিন্তু এমতাবস্তায়ও আপনি আগে যা করতেন তাই করবেন। মনে রাখবে সকল বাবা মাই বুঝবে আপনার কষ্ট কারণ তারাও এমন অবস্থার সম্মুখীন হয় বা হয়েছিল।

৪. প্রথমে আপনার বাচ্চাকে ঠাণ্ডা হওয়ার সময় দিন তারপর তার সাথে বসে কথা বলুন। বেশি দেরি করবেন না তা নাহলে দেখা যাবে সে পুরো ঘটনার কথা ভুলেই গিয়েছে। খুব ভালো হয় ৩০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা পড়ে জিজ্ঞেস করা যে কি এমন হয়েছিল যা তাকে অন্য বাচ্চার গায়ে হাত তুলতে বাধ্য করেছিল। তাকে বুঝাতে চেষ্টা করুন যে অন্য বাচ্চার আচরণে তার রাগ হতেই পারে এটা অস্বাভাবিক কিছু না কিন্তু তাই বলে সে কারও গায়ে হাত তুলতে পারে না। এটা একদমই ঠিক না। তাকে বুদ্ধি দেন যে মারামারির পরিবর্তে সে ওই বাচ্চাকে বলতে পারে যে তার আচরনে সে বিরক্ত বা প্রয়োজন পরলে সে বড় কারও সাহায্যও নিতে পারে। আরও যা করতে পারেন তা হল সে মারামারি শুরু করলে সবকাজ ফেলে আগে তাকে ওই জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে একা দুজনে কিছু সময় কাটান। যদি পারেন তার মাথায় হাত বোলান, ঘারে হাত রেখে কথা বলেন। তারপর আস্তে আস্তে তাকে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করুন। তার অনুভূতিগুলো বুঝতে তাকে সাহায্য করুন। মারামারি কিংবা গায়ে হাত তুলা যে কোন সমস্যার সমাধান না তা তাকে বোঝান।

৫. আপনার বাচ্চার ভাল আচরণগুলির জন্যে তাকে পুরস্কার দিতে পারেন। যখন সে তার খেলার জিনিসগুলি অন্য বাচ্চার সাথে ভাগাভাগি করে নেয়, কোন কাজ করার আগে আপনার অনুমতি নেয় তখন তাকে বলুন যে আপনি তার আচরনে খুব খুশি হয়েছেন। তাকে উপহারস্বরূপ তার পছন্দের চকলেট, ক্যান্ডি বা বই ইত্যাদি দিন যদি সে তার রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

৬. আপনার বাচ্চার মারমুখী আচরণে যদি কারও কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে তাহলে তাকেই সেই জিনিসের ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নিতে হবে তা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। এটাকে কোন শাস্তি নয় বরং একটা দায়িত্ব হিসাবে বোঝানোর চেষ্টা করুন, যেটা সবাইকেই করতে হয় যদি সে অন্যের জিনিষ নষ্ট করে। এবং যেকোন ভুল করলে সে যেন “সরি” বলে।

৭. আপনার বাচ্চা কোন ধরনের কার্টুন দেখছে বা কি ধরনের ভিডিও গেমস খেলছে তাও নজরে রাখা উচিৎ। কারন অনেক সময় কার্টুন বা ভিডিও গেমস থেকেও প্রভাবিত হয়ে বাচ্চারা মারমুখী আচরণ করতে পারে। সারাদিন বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখার জন্য মাত্রাতিরিক্ত টেলিভিশন দেখতে দেয়াও ঠিক না। সুতরাং সেই ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হবে।

৮. যদি দরকার পড়ে তাহলে ডাক্তারের সহায়তা নিন। কিছু কিছু বাচ্চা আছে যারা নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বা সামান্য কিছু হলেই মারমুখী আচরণ করে এর কারণ হতে পারে কোন মানসিক সমস্যা। মানসিক সমস্যা 

সন্তানের সৃজনশীলতার চর্চা করান কিডসটাইমের কোর্সে।কিডসটাইমের কোর্স গুলো দেখতে ভিজিট করুন নিচের লিংকে :

ToguMogu App